সরকারি চাকরির প্রধান পরীক্ষাগুলো কীভাবে হয়, কী পড়তে হয়, বেতন কত, আর সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর: এক পাতায়। সব তথ্য অফিসিয়াল উৎস থেকে মিলিয়ে নেওয়া, নিচে উৎস দেওয়া আছে।
সর্বশেষ যাচাই: ২৫ অক্টোবর ২০২৬
বিসিএস পরীক্ষা
বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) হলো সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, যার মাধ্যমে প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ বিভিন্ন ক্যাডারে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তা নিয়োগ হয়। তিন ধাপ: প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক। ক্যাডার না পেলেও লিখিত ও মৌখিকে পাস করলে নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ পাওয়ার সুযোগ থাকে।
বয়সসীমা
২১–৩২ বছর, সবার জন্য; কোন তারিখে বয়স গুনবে তা বিজ্ঞপ্তিতে থাকে
শিক্ষাগত যোগ্যতা
৪ বছরের স্নাতক (সম্মান), অথবা ৩ বছরের স্নাতক + স্নাতকোত্তর; টেকনিক্যাল ক্যাডারে নির্দিষ্ট ডিগ্রি (যেমন MBBS)
আবেদন ফি
২০০ টাকা (ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ: ৫০ টাকা), সাথে ৫ টাকা চার্জ
আবেদন
bpsc.teletalk.com.bd — ফি টেলিটক প্রিপেইড থেকে এসএমএসে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে
কতদিন পরপর
পিএসসির লক্ষ্য: প্রতি নভেম্বরে সাধারণ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি, এক বছরের মধ্যে ফল
মোট নম্বর
লিখিত ৯০০ + মৌখিক ১০০ = ১,০০০ (প্রিলিমিনারির নম্বর যোগ হয় না)
২০০টি MCQ। প্রতিটি সঠিক উত্তরে ১, প্রতিটি ভুলে ০.৫ নম্বর কাটা যায়। পাস নম্বর পিএসসি প্রতিবার ঠিক করে। এই নম্বর চূড়ান্ত ফলে যোগ হয় না, শুধু লিখিত পরীক্ষার জন্য বাছাই। ৫০তম বিসিএস থেকে বিষয়ভিত্তিক নম্বর:
বিষয়
নম্বর
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য
৩০
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য
৩০
বাংলাদেশ বিষয়াবলি
২৫
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
২৫
গাণিতিক যুক্তি
২০
সাধারণ বিজ্ঞান
১৫
কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি
১৫
মানসিক দক্ষতা
১৫
নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন
১৫
ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
১০
২লিখিত পরীক্ষা৯০০ নম্বর
সাধারণ ক্যাডার: বাংলা ২০০, ইংরেজি ২০০, বাংলাদেশ বিষয়াবলি ২০০, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ১০০, গাণিতিক যুক্তি ৫০ ও মানসিক দক্ষতা ৫০, সাধারণ বিজ্ঞান ৬০ + কম্পিউটার ২৫ + তথ্যপ্রযুক্তি ১৫। টেকনিক্যাল/পেশাগত ক্যাডার: বাংলা ১০০, ইংরেজি ২০০, বাংলাদেশ বিষয়াবলি ২০০, আন্তর্জাতিক ১০০, গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা ১০০, এবং পদসংশ্লিষ্ট বিষয় ২০০। পাস: গড়ে ৫০%; কোনো পত্রে ৩০%-এর কম পেলে সেই পত্রে শূন্য ধরা হয়।
৩মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা)১০০ নম্বর
৪৭তম বিসিএস থেকে ভাইভা ২০০ থেকে কমে ১০০ নম্বর; পাস ৫০। লিখিততে পাস করা প্রার্থীরা ভাইভার আগেই অনলাইনে ক্যাডার পছন্দক্রম দেন। ভাইভা বোর্ড এখন লটারিতে ঠিক হয়।
৪স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুলিশ ভেরিফিকেশন ও গেজেট
পিএসসির সুপারিশের পর মেডিকেল বোর্ড ও পুলিশ/গোয়েন্দা যাচাই হয়, তারপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গেজেট প্রকাশ করে। এই ধাপে কয়েক মাস লাগতে পারে।
কী পড়বেন
প্রিলিমিনারির জন্য বিগত সালের বিসিএস প্রশ্ন বারবার সমাধান করুন; একই ধরনের প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসে।
বাংলা ও ইংরেজিতে মোট ৬০ নম্বর: ব্যাকরণ ও সাহিত্যের নিয়মিত পড়া সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়।
বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির জন্য প্রতিদিন পত্রিকা পড়ুন; সংবিধান, মুক্তিযুদ্ধ, অর্থনীতি ও সাম্প্রতিক ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ।
গণিত ও মানসিক দক্ষতা অনুশীলনে আসে; প্রতিদিন কিছু অঙ্ক করুন।
লিখিততে ভালো করতে লেখার গতি ও গোছানো উত্তর দরকার; প্রিলির সময় থেকেই লেখার অভ্যাস রাখুন।
মনে রাখুন
কোটা: ৯৩% মেধা; ৫% মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধা/বীরাঙ্গনার সন্তান, ১% ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, ১% প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ। কোটায় প্রার্থী না পেলে পদ মেধা তালিকা থেকে পূরণ হয়।
ফি পরিশোধের আগ পর্যন্ত আবেদন সংশোধন করা যায়, পরে নয়।
বিশেষ বিসিএস (যেমন ৪৮, ৪৯, ৫১তম) একটি ক্যাডারের জন্য: ২০০ নম্বরের MCQ লিখিত পরীক্ষা ও ১০০ নম্বরের ভাইভা, বর্ণনামূলক লিখিত নেই।
বাস্তবে বিজ্ঞপ্তি থেকে চূড়ান্ত ফল পর্যন্ত এক থেকে দুই বছর লেগেছে (৪৭তম: প্রায় ১৯ মাস)।
পিএসসি দুইভাবে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ করে: (১) বিসিএসে লিখিত ও মৌখিকে পাস করে ক্যাডার না পাওয়া প্রার্থীদের মেধা ও পছন্দ অনুযায়ী, এবং (২) নির্দিষ্ট পদের জন্য আলাদা নন-ক্যাডার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে। দুই ক্ষেত্রেই পদগুলো সাধারণত ৯ম থেকে ১২তম গ্রেডের।
বয়সসীমা
সাধারণত ১৮–৩২ বছর (বিজ্ঞপ্তিতে দেখুন)
আবেদন ফি
৯ম ও ১০ম গ্রেড ২০০ টাকা, ১১তম গ্রেড ১৫০ টাকা, অনগ্রসর প্রার্থী ৫০ টাকা; প্রতিটি পদের জন্য আলাদা ফি
আবেদন
টেলিটকে বিপিএসসির নন-ক্যাডার ফর্ম (Form-5-A)
বিসিএস থেকে
উদাহরণ: ৪৪তম বিসিএস থেকে ৪,১৩৬ জন নন-ক্যাডারে সুপারিশ পেয়েছেন
পরীক্ষার ধাপ
১প্রিলিমিনারি (আবেদন বেশি হলে)১০০ নম্বর · ১ ঘণ্টা
সাধারণত ১,০০০-এর বেশি আবেদন পড়লে MCQ বাছাই পরীক্ষা হয়, ভুল উত্তরে ০.৫ কাটা। সাধারণ পদে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান, গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞান ২৫ করে।
২লিখিত পরীক্ষা২০০ নম্বর
সাধারণ পদে বাংলা ৫০, ইংরেজি ৫০, সাধারণ জ্ঞান ৪০, গণিত ও মানসিক দক্ষতা ৬০। টেকনিক্যাল পদে পদসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বেশি নম্বর।
৩মৌখিক পরীক্ষা৫০–১০০ নম্বর
৯ম গ্রেডে সাধারণত ১০০, ১০ম–১১তম গ্রেডে ৫০ নম্বর।
মনে রাখুন
পরীক্ষার নম্বর বণ্টন সর্বশেষ বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়েছে ২০২২ সালে; প্রতিটি বিজ্ঞপ্তি ও সিলেবাস দেখে নিন।
নন-ক্যাডারে সুপারিশ মানেই নিয়োগ নিশ্চিত নয়; নিয়োগকারী মন্ত্রণালয় কাগজপত্র, স্বাস্থ্য ও পূর্ব-পরিচয় যাচাই করে।
১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের বেশিরভাগ পদে নিয়োগ দেয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা দপ্তর, পিএসসি নয় (নিচে "অন্যান্য সরকারি চাকরি" দেখুন)।
সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, কৃষি ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা নিয়োগ হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির (বিএসসি) সমন্বিত পরীক্ষায়। বাংলাদেশ ব্যাংক নিজের সহকারী পরিচালক (এডি) ও অফিসার আলাদাভাবে নিয়োগ দেয়। দুটিতেই আবেদন হয় erecruitment.bb.org.bd সাইটে।
পদ ও গ্রেড
সিনিয়র অফিসার (৯ম গ্রেড), অফিসার ও অফিসার (ক্যাশ) (১০ম গ্রেড); বাংলাদেশ ব্যাংকের এডি ৯ম গ্রেড
বয়সসীমা
২১–৩২ বছর
শিক্ষাগত যোগ্যতা
৪ বছরের স্নাতক বা স্নাতকোত্তর; কোনো স্তরে তৃতীয় বিভাগ/শ্রেণি গ্রহণযোগ্য নয়; অনেক পদে অন্তত একটি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ লাগে
আবেদন ফি
২০০ টাকা, মোবাইল ব্যাংকিং/বাংলা কিউআরে; ফেরতযোগ্য নয়
কতদিন পরপর
বছরে কয়েকটি বিজ্ঞপ্তি, তবে একেকটি শেষ হতে ১–৩ বছর লেগে যায়
পরীক্ষার ধাপ
১প্রিলিমিনারি (MCQ)১০০ নম্বর · ১ ঘণ্টা
সমন্বিত ব্যাংক পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও পরিমাণগত দক্ষতা, সাধারণ জ্ঞান এবং কম্পিউটার। বাংলাদেশ ব্যাংকের এডি পরীক্ষায় এর সাথে আর্থিক ও ব্যাংকিং জ্ঞান এবং বিশ্লেষণী দক্ষতা।
২লিখিত পরীক্ষা২০০ নম্বর
সিনিয়র অফিসারে (২০২৫): ইংরেজিতে ফোকাস রাইটিং ৩৫, বাংলায় ফোকাস রাইটিং ৩৫, সাধারণ জ্ঞান ৩০, ইংরেজি কমপ্রিহেনশন ৩০, গণিত ৩০, অনুবাদ ১০, ইংরেজিতে যুক্তিমূলক লেখা ৩০।
৩মৌখিক পরীক্ষা
বাংলাদেশ ব্যাংক এডিতে ২৫ নম্বর। সমন্বিত পরীক্ষার ভাইভা মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে হয়।
কী পড়বেন
ব্যাংক পরীক্ষায় ইংরেজি ও গণিতের ওজন বেশি; বিগত সালের ব্যাংক প্রশ্ন সমাধান করুন।
লিখিত পরীক্ষায় ইংরেজি ও বাংলায় সাম্প্রতিক অর্থনীতি ও ব্যাংকিং নিয়ে ফোকাস রাইটিং অনুশীলন করুন।
বাংলাদেশ ব্যাংক এডির জন্য মুদ্রানীতি, মূল্যস্ফীতি, রিজার্ভ, ব্যাংকিং পরিভাষা জানুন।
মনে রাখুন
সমন্বিত পরীক্ষার লিখিত ও ভাইভায় সাধারণত আলাদা অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া হয় না; প্রিলিমিনারির অ্যাডমিট কার্ড লাগে।
নেগেটিভ মার্কিং ও ভাইভার নম্বর প্রতিটি পরীক্ষার নোটিশে দেখে নিন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (১৩তম গ্রেড) নিয়োগ দেয়, এখন "সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০২৫" অনুযায়ী। পরীক্ষা ৯০ নম্বরের MCQ লিখিত ও ১০ নম্বরের মৌখিক।
বয়সসীমা
২১–৩২ বছর
শিক্ষাগত যোগ্যতা
স্নাতক বা সম্মান, অন্তত দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএ; কোনো স্তরে তৃতীয় বিভাগ চলবে না; বিজ্ঞানের প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পান
আবেদন ফি
১১২ টাকা (১০০ + টেলিটক চার্জ)
আবেদন
dpe.teletalk.com.bd
কোটা
নারী কোটা আর নেই; ৯৩% মেধা, ৭% কোটা (অন্য সরকারি চাকরির মতো)
সর্বশেষ
২০২৫-এর বিজ্ঞপ্তিতে ১৪,৩৮৫ পদ; লিখিত ৯ জানুয়ারি ২০২৬, চূড়ান্ত ফল ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, যোগদান ১ অক্টোবর ২০২৬
পরীক্ষার ধাপ
১লিখিত পরীক্ষা (MCQ)৯০ নম্বর · ৯০ মিনিট
পাস নম্বর ৪৫।
বিষয়
নম্বর
বাংলা
২৫
ইংরেজি
২৫
গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞান
২০
সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক)
২০
২মৌখিক পরীক্ষা১০ নম্বর
পাস নম্বর ৫। লিখিতে পাস করা প্রার্থীরা অংশ নেন।
কী পড়বেন
বাংলা ও ইংরেজির ব্যাকরণ এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের গণিত ভালোভাবে অনুশীলন করুন।
বিগত সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান করুন।
চূড়ান্ত ফলে লিখিতের নম্বরই মূল; ভাইভা মাত্র ১০ নম্বর।
মনে রাখুন
তিন পার্বত্য জেলার (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান) প্রার্থীরা এই বিজ্ঞপ্তির আওতায় নন; সেখানে আলাদা নিয়োগ হয়।
বিজ্ঞপ্তি সাধারণত বিভাগভিত্তিক কয়েক ধাপে আসে; নিজের জেলার ধাপের তারিখ খেয়াল রাখুন।
বেসরকারি (এমপিওভুক্ত) স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় প্রাথমিক স্তরের শিক্ষক বাছাই করে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। প্রতিষ্ঠানগুলো ই-রিকুইজিশনে শূন্য পদ পাঠায়, তারপর মেধা ও প্রার্থীর পছন্দ অনুযায়ী সফটওয়্যারে প্রার্থী মেলানো হয়।
বয়সসীমা
নিয়োগে সর্বোচ্চ ৩৫ বছর
আবেদন
এনটিআরসিএর বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া টেলিটক সাইটে (ntrca.gov.bd)
বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান থেকে ২৫টি করে প্রশ্ন; পাস ৪০; ভুল উত্তরে ০.২৫ কাটা। স্কুল, স্কুল-২ ও কলেজ পর্যায়ের আলাদা পরীক্ষা (১৮তম নিবন্ধন অনুযায়ী)।
২লিখিত পরীক্ষা
বিষয়ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষা।
৩মৌখিক পরীক্ষা ও নিয়োগ সুপারিশ
উত্তীর্ণরা নিবন্ধন সনদ পান; তারপর গণবিজ্ঞপ্তিতে পছন্দের প্রতিষ্ঠানে আবেদন করে মেধা অনুযায়ী সুপারিশ পান।
মনে রাখুন
২০২৫ সালের নতুন বিধিমালায় শূন্য পদ ধরে সরাসরি নিয়োগ পরীক্ষার কথা এসেছে (একটি প্রতিবেদনে ২০০ নম্বর MCQ + ২০ নম্বর ভাইভা), আবার সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর খবরে তিন ধাপের নিবন্ধন পদ্ধতি থাকছে বলা হয়েছে। ১৯তম বিজ্ঞপ্তিতেই চূড়ান্ত কাঠামো জানা যাবে।
প্রতিষ্ঠান প্রধান (প্রধান শিক্ষক/অধ্যক্ষ) পদের জন্য আলাদা কেন্দ্রীয় পরীক্ষা হয় (২০২৬: ১২,৯৫১ পদ)।
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন (বিজেএসসি) সহকারী জজ নিয়োগ দেয়। তিন ধাপ: ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি, ১,০০০ নম্বরের লিখিত ও ১০০ নম্বরের মৌখিক। সব পরীক্ষা ঢাকায় হয়।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
৪ বছরের এলএলবি (সম্মান), বা ৩ বছরের এলএলবি + স্নাতকোত্তর; অন্তত দ্বিতীয় শ্রেণি
বয়সসীমা
সর্বোচ্চ ৩২ বছর (এসএসসি সনদ অনুযায়ী)
আবেদন ফি
১,২০০ টাকা, টেলিটক প্রিপেইড এসএমএসে
সর্বশেষ
১৮তম বিজেএস চূড়ান্ত ফল ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬; ১৯তম বিজেএসের আবেদন আগস্ট–সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ হয়েছে
পরীক্ষার ধাপ
১প্রিলিমিনারি (MCQ)১০০ নম্বর
পাস ৫০; ভুল উত্তরে ০.২৫ কাটা; চূড়ান্ত ফলে যোগ হয় না। বিষয়: বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়, গণিত, দৈনন্দিন বিজ্ঞান, মানসিক দক্ষতা ও আইন।
২লিখিত পরীক্ষা১,০০০ নম্বর
গড়ে ৫০% পেতে হয়; কোনো বিষয়ে খুব কম পেলে অকৃতকার্য (বিজ্ঞপ্তিতে সীমা থাকে)।
মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও জেলা অফিসের চাকরি (১১–২০তম গ্রেড)
অফিস সহায়ক, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, হিসাব সহকারী, ড্রাইভারসহ ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের বেশিরভাগ পদে নিয়োগ দেয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় নিজেই। প্রতিদিনই কোনো না কোনো দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি আসে; এই সাইটের বেশিরভাগ বিজ্ঞপ্তিই এই ধরনের।
বয়সসীমা
সাধারণত ১৮–৩২ বছর
শিক্ষাগত যোগ্যতা
পদ অনুযায়ী: ২০তম গ্রেডে এসএসসি, ১৬তম গ্রেডে এইচএসসি, ১৩–১৪তম গ্রেডে স্নাতক
জেলা ও মাঠ পর্যায়ের অনেক পদে সংশ্লিষ্ট জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হয়
টাইপিং
কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে সাধারণত বাংলা ও ইংরেজিতে প্রতি মিনিটে ২০ শব্দ; উচ্চতর পদে ২৫/৩০ শব্দ
পরীক্ষার ধাপ
১লিখিত পরীক্ষা
বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান। নম্বর দপ্তর ও বিধিমালা অনুযায়ী ভিন্ন হয়।
২ব্যবহারিক পরীক্ষা (প্রযোজ্য হলে)
কম্পিউটার/টাইপিং বা ড্রাইভিং পদে হাতে-কলমে পরীক্ষা; এতে পাস করতেই হয়।
৩মৌখিক পরীক্ষা
সাধারণত লিখিতের তুলনায় কম নম্বর।
মনে রাখুন
১১–২০তম গ্রেডের লিখিত ও ভাইভার নম্বর বণ্টনে পরিবর্তনের একটি প্রস্তাব (যেমন ১৩–১৬তম গ্রেডে লিখিত ৬০ + ভাইভা ৪০) সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ সচিব কমিটিতে অনুমোদিত হলেও গেজেট হয়েছে কি না নিশ্চিত নয়। প্রতিটি বিজ্ঞপ্তিতে নম্বর বণ্টন দেখুন।
১৩–২০তম গ্রেডে প্রতি পদের বিপরীতে দুজনের অপেক্ষমাণ তালিকা রাখা হয়, যা এক বছর বা পরের বিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত বহাল থাকে।
সরকারি চাকরির পদগুলো ১ থেকে ২০ গ্রেডে ভাগ করা। এখন চালু আছে নবম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ (চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ ২০২৬), যা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর। নিচে প্রতিটি গ্রেডের শুরুর মূল বেতন। আগের "প্রথম/দ্বিতীয়/তৃতীয়/চতুর্থ শ্রেণি" নামগুলো এখন আর আনুষ্ঠানিক নয়; পদ চেনা হয় গ্রেড দিয়ে।
নতুন স্কেলের বাড়তি অংশ ধাপে ধাপে দেওয়া হচ্ছে: জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৬-এ ১–৯ গ্রেডে ৪০% ও ১০–২০ গ্রেডে ৫০%, জানুয়ারি–জুন ২০২৭-এ ৭০% ও ৭৫%, আর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পুরোটা।
মূল বেতনের সাথে বাড়ি ভাড়া (এলাকা ও গ্রেড অনুযায়ী মূল বেতনের ২৫–৬০%), চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা, বাংলা নববর্ষ ভাতা ইত্যাদি পাওয়া যায়; নতুন হারের ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে।
অবসরের পর পেনশন সুবিধা আছে।
গ্রেডের পাশে দেওয়া পদগুলো উদাহরণ মাত্র; প্রতিটি পদের গ্রেড তার বিজ্ঞপ্তিতে লেখা থাকে। এই সাইটের প্রতিটি বিজ্ঞপ্তির পাতায়ও গ্রেড ও শুরুর বেতন দেখানো হয়।
বেশিরভাগ সরকারি চাকরির আবেদন হয় অনলাইনে, প্রতিটি দপ্তরের আলাদা টেলিটক সাইটে (যেমন bpsc.teletalk.com.bd, dpe.teletalk.com.bd)। সব সাইটের তালিকা আছে alljobs.teletalk.com.bd-তে। ব্যাংকের চাকরি erecruitment.bb.org.bd-তে।
বিজ্ঞপ্তি পড়ুন
পদ, যোগ্যতা, বয়স গোনার তারিখ ও শেষ সময় মিলিয়ে নিন। এই সাইটে প্রতিটি বিজ্ঞপ্তির পাতায় অফিসিয়াল পিডিএফ ও আবেদনের লিংক দেওয়া আছে।
ছবি ও স্বাক্ষর তৈরি রাখুন
ছবি ৩০০×৩০০ পিক্সেল, সর্বোচ্চ ১০০ কেবি; স্বাক্ষর ৩০০×৮০ পিক্সেল, সর্বোচ্চ ৬০ কেবি। সাথে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন নম্বর ও সনদের তথ্য।
অনলাইন ফর্ম পূরণ করুন
নাম, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা সনদের সাথে হুবহু মিলিয়ে লিখুন। এসএসসির তথ্য এইচএসসির ঘরে, বা বর্তমান ঠিকানার জায়গায় স্থায়ী ঠিকানা লেখা সাধারণ ভুল।
অ্যাপ্লিকেন্টস কপি নামিয়ে নিন
জমা দিলে একটি ইউজার আইডিসহ অ্যাপ্লিকেন্টস কপি পাবেন; এতে ফি দেওয়ার নিয়ম লেখা থাকে। ডাউনলোড বা প্রিন্ট করে রাখুন।
৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফি দিন
টেলিটক প্রিপেইড নম্বর থেকে দুটি এসএমএস ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হয়: প্রথমটিতে ইউজার আইডি, দ্বিতীয়টিতে YES ও পিন। সঠিক ফরম্যাট আপনার অ্যাপ্লিকেন্টস কপিতে আছে, সেখান থেকে হুবহু লিখুন। সময়মতো ফি না দিলে আবেদন বাতিল হয়।
ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করুন
ফি জমার পর এসএমএসে পাসওয়ার্ড আসে। অ্যাডমিট কার্ড নামাতে এগুলো লাগবে।
অ্যাডমিট কার্ড নামান
পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা হলে একই সাইট থেকে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করুন; আবেদনের মোবাইল নম্বরে এসএমএসেও জানানো হয়।
সরাসরি নিয়োগে সর্বোচ্চ বয়স ৩২ বছর, সবার জন্য। ২০২৪ সালের অধ্যাদেশে এটি ৩০ থেকে ৩২ করা হয় এবং ৫ এপ্রিল ২০২৬ সংসদে আইন হিসেবে পাস হয়। সর্বনিম্ন বয়স সাধারণত ১৮, বিসিএসে ২১। কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিধিতে ৩২-এর বেশি থাকলে সেটাই বহাল থাকে।
বয়স কোন তারিখ ধরে গোনা হয়?
প্রতিটি বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট তারিখ লেখা থাকে, যেমন "১ মে ২০২৬ তারিখে ১৮–৩২ বছর"। সেই তারিখে আপনার বয়স সীমার মধ্যে থাকতে হবে। বয়সের প্রমাণ হিসেবে এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়।
মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা প্রতিবন্ধীদের বয়সে কি ছাড় আছে?
আগের দুই বছরের বাড়তি সুবিধা ২০২৪ সালে উঠে গেছে; এখন সবার জন্য ৩২। চিকিৎসক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ৩৪ বছরের প্রস্তাব এসেছিল, কিন্তু তা আইন হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়নি; ৫১তম বিশেষ বিসিএসেও বয়সসীমা ৩২।
সরকারি চাকরিতে কোটা কত?
৯৩% মেধা। বাকি ৭%: মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তান ৫%, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ১%, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ ১%। কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পেলে পদ মেধা তালিকা থেকে পূরণ হয়। নারী, জেলা ও নাতি-নাতনি কোটা আর নেই।
একাধিক চাকরিতে আবেদন করা যায় কি?
হ্যাঁ, আলাদা আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করতে কোনো বাধা নেই; প্রতিটির ফি আলাদা। তবে অনেক পরীক্ষা একই দিনে পড়ে যায়, তখন একটি বেছে নিতে হয়। একই বিজ্ঞপ্তিতে একাধিক পদে আবেদন করা যাবে কি না, তা বিজ্ঞপ্তিতেই লেখা থাকে।
আবেদন ফি কত? ফেরত পাওয়া যায়?
ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে: ৯ম–১০ম গ্রেড ২০০, ১১–১২তম ১৫০, ১৩–১৬তম ১০০, ১৭–২০তম ৫০ টাকা, সাথে টেলিটক চার্জ (যেমন ১১২ ও ৫৬ টাকা)। বিসিএসে ২০০ টাকা। ফি সাধারণত ফেরতযোগ্য নয়।
বিকাশ বা নগদে ফি দেওয়া যায়?
টেলিটক সাইটের সরকারি চাকরিতে ফি দিতে হয় টেলিটক প্রিপেইড নম্বর থেকে এসএমএসে, আবেদনের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে। ব্যাংকের চাকরিতে (erecruitment.bb.org.bd) মোবাইল ব্যাংকিং বা বাংলা কিউআরে দেওয়া যায়। কারও ব্যক্তিগত নম্বরে কখনো টাকা পাঠাবেন না।
ছবি ও স্বাক্ষরের সাইজ কত?
ছবি ৩০০×৩০০ পিক্সেল, সর্বোচ্চ ১০০ কেবি; স্বাক্ষর ৩০০×৮০ পিক্সেল, সর্বোচ্চ ৬০ কেবি। বিসিএসে ছবি তিন মাসের মধ্যে তোলা হতে হবে।
অনার্স শেষ বর্ষে থাকলে বা ফলাফল প্রকাশের অপেক্ষায় থাকলে আবেদন করা যায়?
বিসিএসে শর্তসাপেক্ষে পারা যায়: বিজ্ঞপ্তির শেষ তারিখের মধ্যে চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ হলে আবেদন করা যায়। অন্য চাকরিতে সাধারণত শেষ তারিখের মধ্যে যোগ্যতা অর্জিত থাকতে হয়; বিজ্ঞপ্তির শর্ত দেখুন।
বিসিএস কতবার দেওয়া যায়?
২০২৪ সালে উপদেষ্টা পরিষদ সর্বোচ্চ চারবারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কিন্তু বিসিএস বিধিমালার ডিসেম্বর ২০২৪-এর সংশোধনে সংখ্যার সীমা যুক্ত হয়নি বলে জানা গেছে। বয়সসীমার মধ্যে থাকলে আবেদন করা যায়; নতুন কোনো নিয়ম এলে বিজ্ঞপ্তিতে থাকবে।
সরকারি চাকরির জন্য কি কম্পিউটার সার্টিফিকেট লাগে?
বিজ্ঞপ্তিতে চাইলে তবেই। কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ও সহকারী পদে সাধারণত টাইপিং গতি চাওয়া হয় (যেমন বাংলা ও ইংরেজিতে প্রতি মিনিটে ২০ শব্দ), যা ব্যবহারিক পরীক্ষায় যাচাই হয়।
ইউজার আইডি বা পাসওয়ার্ড হারালে কী করব?
আবেদনের সাইটে বা বিজ্ঞপ্তিতে "ইউজার আইডি/পাসওয়ার্ড হারালে" এসএমএসের ফরম্যাট দেওয়া থাকে; সেটি টেলিটক নম্বর থেকে ১৬২২২-এ পাঠান। না পারলে টেলিটক হেল্পলাইনে (১২১) ফোন করুন।
অ্যাডমিট কার্ড হারালে কী করব?
একই টেলিটক সাইট থেকে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে আবার ডাউনলোড করুন। অ্যাডমিট কার্ড শুধু অনলাইনেই দেওয়া হয়।
কেউ চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা চাইলে কী করব?
আবেদন ফি ছাড়া সরকারি চাকরিতে আর কোনো টাকা লাগে না। এমন কাউকে টাকা দেবেন না; অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি মিলিয়ে দেখুন এবং প্রতারণার চেষ্টা হলে নিকটস্থ থানায় জানান।
অপেক্ষমাণ তালিকা কী?
১৩–২০তম গ্রেডে প্রতি পদের বিপরীতে দুজনের অপেক্ষমাণ তালিকা রাখা হয়, যা এক বছর বা পরের বিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত বহাল থাকে। নির্বাচিত কেউ যোগ না দিলে তালিকা থেকে ডাকা হয়।
চূড়ান্ত ফলের পর কী হয়?
পুলিশ/গোয়েন্দা সংস্থার যাচাই, মেডিকেল বোর্ডে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, তারপর নিয়োগপত্রে দেওয়া তারিখে যোগদান। সাধারণত দুই বছরের শিক্ষানবিশকাল থাকে, যা প্রয়োজনে বাড়ানো যায়। সময়মতো যোগ না দিলে নিয়োগ বাতিল হতে পারে।
নিয়ম প্রায়ই বদলায়। আবেদনের আগে সবসময় সেই চাকরির অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন; বিজ্ঞপ্তির শর্তই চূড়ান্ত। কোনো তথ্যে ভুল চোখে পড়লে জানান: contact@bdgovernmentjobs.com