বাদুড় অন্ধকারে চলাফেরা করে কিভাবে?
সঠিক উত্তর
গসৃষ্ট শব্দের প্রতিধ্বনি শুনে
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটা প্রতিধ্বনির ব্যবহার পরীক্ষা করছে। বাদুড় অন্ধকারে চলে প্রতিধ্বনির সাহায্যে; একে বলে ইকোলোকেশন, অর্থাৎ প্রতিধ্বনি দিয়ে অবস্থান নির্ণয়।
বাদুড় উড়তে উড়তে খুব উঁচু কম্পাঙ্কের শব্দ, অর্থাৎ শব্দোত্তর তরঙ্গ, ছাড়ে। মানুষ বিশ হাজার হার্জের বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায় না, তাই আমরা এ ডাক শুনি না।
শব্দ কোনো দেয়াল, গাছ বা পোকায় লেগে ফিরে আসে। প্রতিধ্বনি ফিরতে কত সময় লাগল আর কোন দিক থেকে এলো, তা শুনে বাদুড় বুঝে নেয় বাধা বা শিকার কত দূরে ও কোথায়। জাহাজের সোনার যন্ত্রও এই নীতিতে কাজ করে।
ফাঁদ হলো শব্দ উৎপন্ন করার বিকল্পটি। শুধু শব্দ ছাড়লেই অবস্থান জানা যায় না; ফিরে আসা প্রতিধ্বনি শুনেই বাদুড় দূরত্ব বোঝে, তাই পূর্ণ উত্তর প্রতিধ্বনি শোনা।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩| ধাপ | কী ঘটে |
|---|---|
| শব্দ ছাড়ে | শব্দোত্তর তরঙ্গ |
| শব্দ বাধায় লাগে | দেয়াল, গাছ বা পোকা থেকে ফেরে |
| প্রতিধ্বনি শোনে | সময় ও দিক থেকে দূরত্ব বোঝে |
- বাদুড় মুখ বা নাক দিয়ে উঁচু কম্পাঙ্কের শব্দ ছাড়ে।
- শব্দ সামনের বাধা বা পোকায় লেগে ফিরে আসে।
- ফিরে আসা প্রতিধ্বনি শুনেই বাদুড় দূরত্ব ও দিক বোঝে।
ক. তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন চোখের সাহায্যে: তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন চোখের সাহায্যে বিকল্পটি ভুল, কারণ ঘোর অন্ধকারে চোখ কাজে লাগে না; অন্ধকারে চলা বাদুড় শব্দের উপর নির্ভর করে।
খ. ক্রমাগত শব্দ উৎপন্নের মাধ্যমে অবস্থান নির্ণয় করে: ক্রমাগত শব্দ উৎপন্নের মাধ্যমে অবস্থান নির্ণয় করে বিকল্পটি অসম্পূর্ণ: শব্দ ছাড়া প্রথম ধাপ মাত্র, অবস্থান বোঝা যায় ফিরে আসা প্রতিধ্বনি শুনে।
ঘ. অলৌকিকভাবে: অলৌকিকভাবে বিকল্পটি অবৈজ্ঞানিক; বাদুড়ের চলাফেরা প্রতিধ্বনির পরিচিত ভৌত নীতিতেই ব্যাখ্যা করা যায়।
বাদুড়, ডলফিন আর সোনার যন্ত্র: তিনটিই প্রতিধ্বনির নীতিতে চলে।
ডাক দেয়, প্রতিধ্বনি শোনে, পথ চেনে।