আকাশে বিদ্যুৎ চমকায় –
সঠিক উত্তর
কমেঘের অসংখ্য জলকণা/বরফকণার মধ্যে চার্জ সঞ্চিত হলে
ব্যাখ্যা
বিদ্যুৎ চমকানো হলো মেঘে জমা বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক চার্জের হঠাৎ নির্গমন। প্রশ্ন জানতে চেয়েছে সেই চার্জ কোথা থেকে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থার ব্যাখ্যা অনুযায়ী বজ্রমেঘের ভেতরের ঊর্ধ্বমুখী বাতাসে অতিশীতল জলকণা, ছোট বরফকণা ও নরম শিলাকণা মিশে থাকে। এগুলোর সংঘর্ষে ছোট বরফকণা ধনাত্মক আর ভারী শিলাকণা ঋণাত্মক চার্জ পায়।
হালকা ধনাত্মক বরফকণা বাতাসে মেঘের চূড়ায় ওঠে, ভারী ঋণাত্মক কণা থাকে মেঘের মাঝখানে ও নিচে; নিচের মাটিতে আবিষ্ট হয় ধনাত্মক চার্জ। চার্জের এই পার্থক্য খুব বেড়ে গেলে বাতাসের মধ্য দিয়ে বিশাল স্ফুলিঙ্গের মতো নির্গমন ঘটে, সেটাই বিদ্যুৎ চমক।
ফাঁদ হলো দুই খণ্ড মেঘের সংঘর্ষ। প্রচলিত ধারণা হলেও আসল সংঘর্ষ ঘটে একই মেঘের ভেতরের জলকণা ও বরফকণার মধ্যে, মেঘের খণ্ডে খণ্ডে নয়।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩- মেঘের মাঝখানে ঊর্ধ্বমুখী বাতাসে জলকণা, বরফকণা ও শিলাকণার সংঘর্ষ হয়।
- হালকা বরফকণা ধনাত্মক হয়ে ওপরে ওঠে, ভারী শিলাকণা ঋণাত্মক হয়ে নিচে থাকে।
- মাটিতে ধনাত্মক চার্জ আবিষ্ট হয়; পার্থক্য বাড়লে বাতাসে স্ফুলিঙ্গ, অর্থাৎ বিদ্যুৎ চমক।
খ. দুখণ্ড মেঘ পরস্পর সংঘর্ষ হলে: বিকল্প ‘দুখণ্ড মেঘ পরস্পর সংঘর্ষ হলে’ প্রচলিত ভুল ধারণা; চার্জ তৈরি হয় একই মেঘের ভেতরের কণাগুলোর সংঘর্ষে।
গ. মেঘের মধ্যে বিদ্যুৎ কোষ তৈরি হলে: বিকল্প ‘মেঘের মধ্যে বিদ্যুৎ কোষ তৈরি হলে’ ভুল; মেঘে রাসায়নিক বিদ্যুৎ কোষ তৈরি হয় না, চার্জ আলাদা হয় কণার সংঘর্ষে।
ঘ. মেঘ বিদ্যুৎ পরিবাহী অবস্থায় এলে: বিকল্প ‘মেঘ বিদ্যুৎ পরিবাহী অবস্থায় এলে’ ভুল; মেঘ বা বাতাস পরিবাহী হলে চার্জ জমতেই পারত না, চার্জের পার্থক্য বাড়ার পরেই নির্গমন ঘটে।
বিদ্যুৎ চমকের মূল কথা চার্জ জমা ও চার্জের পার্থক্য; সংঘর্ষ হয় কণায় কণায়, মেঘে মেঘে নয়।
বরফকণার ঠোকাঠুকিতে চার্জ জমে, চার্জ উপচে পড়লে আকাশ চমকায়।