সমুদ্রে দ্রাঘিমাংশ নির্ণয়ের যন্ত্রের নাম-
সঠিক উত্তর
কক্রোনোমিটার
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটা সমুদ্রে দ্রাঘিমাংশ নির্ণয়ের যন্ত্র জানতে চেয়েছে। উত্তর ক্রোনোমিটার, একটি অত্যন্ত নিখুঁত ঘড়ি যা জাহাজের দোলা ও তাপমাত্রার পরিবর্তনেও ঠিক সময় রাখে।
পদ্ধতিটা সময়ের হিসাব। পৃথিবী চব্বিশ ঘণ্টায় তিনশো ষাট ডিগ্রি ঘোরে, তাই প্রতি এক ঘণ্টা সময়ের পার্থক্য মানে পনেরো ডিগ্রি দ্রাঘিমার পার্থক্য। ক্রোনোমিটারে গ্রিনিচের সময় রাখা হয়, আর সূর্য দেখে জাহাজের স্থানীয় সময় বের করা হয়।
যেমন জাহাজে স্থানীয় দুপুর বারোটা, ক্রোনোমিটারে গ্রিনিচে তখন বিকেল তিনটা। পার্থক্য তিন ঘণ্টা, মানে পঁয়তাল্লিশ ডিগ্রি; স্থানীয় সময় পিছিয়ে আছে বলে জাহাজটি গ্রিনিচের পশ্চিমে, পঁয়তাল্লিশ ডিগ্রি পশ্চিম দ্রাঘিমায়।
ফাঁদ হলো সেক্সট্যান্ট। এটিও জাহাজের যন্ত্র, কিন্তু এটি দিগন্ত থেকে সূর্য বা তারার কৌণিক উচ্চতা মাপে, যা থেকে মূলত অক্ষাংশ বের হয়।
- ৩৬০° ÷ ২৪ ঘণ্টা = ১৫° প্রতি ঘণ্টা
- গ্রিনিচ সময় বিকেল ৩টা, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা
- সময়ের পার্থক্য = ৩ ঘণ্টা
- দ্রাঘিমার পার্থক্য = ৩ × ১৫° = ৪৫°
- স্থানীয় সময় পিছিয়ে, তাই অবস্থান ৪৫° পশ্চিম
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৪/৪- পৃথিবী প্রতি ঘণ্টায় ১৫ ডিগ্রি ঘোরে।
- ক্রোনোমিটারে গ্রিনিচ সময় বিকেল ৩টা, জাহাজে স্থানীয় দুপুর ১২টা।
- পার্থক্য ৩ ঘণ্টা, তাই দ্রাঘিমার পার্থক্য ৩ × ১৫ = ৪৫ ডিগ্রি।
- স্থানীয় সময় পিছিয়ে, তাই জাহাজ ৪৫ ডিগ্রি পশ্চিমে।
খ. কম্পাস: বিকল্প ‘কম্পাস’ দিক নির্ণয়ের যন্ত্র; উত্তর দক্ষিণ বলে দেয়, দ্রাঘিমা নয়।
গ. সিসমোগ্রাফ: বিকল্প ‘সিসমোগ্রাফ’ ভূমিকম্পের কম্পন মাপার যন্ত্র; নৌচালনার সঙ্গে সম্পর্ক নেই।
ঘ. সেক্সট্যান্ট: বিকল্প ‘সেক্সট্যান্ট’ দিগন্ত থেকে সূর্য বা তারার কৌণিক উচ্চতা মাপে, যা থেকে মূলত অক্ষাংশ বের হয়; একা দ্রাঘিমা দেয় না।
দ্রাঘিমা মানেই সময়ের পার্থক্য, আর সময় মাপে ঘড়ি; তাই ক্রোনোমিটার।
ক্রোনো মানে সময়, সময় থেকে দ্রাঘিমা; সেক্সট্যান্ট মাপে কোণ, কোণ থেকে অক্ষাংশ।