কিসের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলন হয়েছিল?
সঠিক উত্তর
ঘবাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটা ভাষা আন্দোলনের আদর্শিক ভিত্তি জানতে চেয়েছে। মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদার দাবিতে যে আন্দোলন হয়, তার মূলে ছিল বাঙালি পরিচয়ের চেতনা, অর্থাৎ বাঙালি জাতীয়তাবাদ।
পাকিস্তান রাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল ধর্মভিত্তিক দ্বিজাতি তত্ত্বের ওপর। কিন্তু উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার চেষ্টায় পূর্ব বাংলার মানুষ বুঝল, ধর্ম এক হলেও ভাষা ও সংস্কৃতিতে তারা আলাদা জাতি।
এই উপলব্ধিই ভাষা আন্দোলনকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম বড় প্রকাশে পরিণত করে, যা পরে ছয় দফা ও মুক্তিযুদ্ধের পথ তৈরি করে।
ফাঁদ হলো অসাম্প্রদায়িকতা বেছে নেওয়া। আন্দোলনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছিল, কিন্তু মূল ভিত্তি ছিল ভাষাভিত্তিক জাতিসত্তা।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩- ১৯৪৭দ্বিজাতি তত্ত্বে পাকিস্তান সৃষ্টি
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২উর্দু চাপানো ও ভাষার দাবি
- ১৯৫২একুশে ফেব্রুয়ারি: বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ
- পাকিস্তানের ভিত্তি ছিল ধর্মভিত্তিক দ্বিজাতি তত্ত্ব।
- উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় বাঙালি নিজের ভাষা-পরিচয় নিয়ে সচেতন হয়।
- ভাষাভিত্তিক এই জাতিচেতনাই বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ভাষা আন্দোলনের ভিত্তি।
ক. দ্বি-জাতি তত্ত্ব: দ্বিজাতি তত্ত্ব ছিল পাকিস্তান সৃষ্টির ভিত্তি; ভাষা আন্দোলন বরং এর বিপরীতে দাঁড়িয়েছিল।
খ. সামাজিক চেতনা: সামাজিক চেতনা খুব সাধারণ একটি কথা; আন্দোলনের নির্দিষ্ট ভিত্তি ছিল জাতিসত্তার চেতনা।
গ. অসাম্প্রদায়িকতা: অসাম্প্রদায়িক চেতনা আন্দোলনের একটি বৈশিষ্ট্য ছিল, মূল ভিত্তি নয়।
ভাষা মানেই জাতিসত্তা: ভাষা আন্দোলনের ভিত্তি বাঙালি জাতীয়তাবাদ।
দ্বিজাতি তত্ত্ব ভাঙল ভাষার প্রশ্নে, জন্ম নিল বাঙালি জাতীয়তাবাদ।