নিচের কোনটি জলজ উদ্ভিদ নয়?
সঠিক উত্তর
ঘগজারী
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি জলজ বা জলাভূমির উদ্ভিদ চেনা নিয়ে। গজারি জলজ উদ্ভিদ নয়।
গজারি হলো শাল গাছের স্থানীয় নাম। এটি উঁচু, শুকনো, লালচে মাটির পত্রপতনশীল বনের গাছ; মধুপুর, ভাওয়াল ও দিনাজপুরের শালবনে জন্মায়। দাঁড়িয়ে থাকা পানি এটি সহ্য করতে পারে না।
করচ ও হিজল হাওর-বিলের জলাবনের প্রধান গাছ। বর্ষায় এদের কাণ্ড কয়েক মাস পানির নিচে থাকে, তবু বেঁচে থাকে। সিলেটের রাতারগুল জলাবন ও টাঙ্গুয়ার হাওরে এদের দেখা যায়। ডুমুর গোত্রের কিছু গাছও জলাবনে জন্মায়; রাতারগুল জলাবনের গাছের তালিকায় কাকডুমুরও আছে।
জলজ উদ্ভিদ বলতে অনেকে শুধু শাপলা, কচুরিপানা ভাবেন, তাই গাছগুলো দেখে বিভ্রান্ত হন। এখানে জলজ মানে জলাবদ্ধতা সহ্য করা জলাভূমির গাছ; সেই বিচারে শুকনো মাটির গজারি আলাদা।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩| গাছ | কোথায় জন্মায় |
|---|---|
| করচ | হাওর, জলাবন (রাতারগুল) |
| হিজল | হাওর-বিলের কিনারা, জলাবন |
| ডুমুর গোত্র | জলাবনেও জন্মায় |
| গজারি (শাল) | মধুপুর-ভাওয়ালের শুকনো শালবন |
- করচ ও হিজল: হাওরের জলাবনের গাছ, মাসের পর মাস পানিতে থাকে।
- ডুমুর গোত্রের গাছও জলাবনে দেখা যায়।
- গজারি বা শাল: শুকনো উঁচু লাল মাটির শালবনের গাছ। জলজ নয়।
ক. করচ: করচ হাওর ও জলাবনের প্রধান গাছ, দীর্ঘ জলাবদ্ধতা সহ্য করে।
খ. হিজল: হিজল হাওর-বিলের কিনারার পরিচিত জলাভূমির গাছ।
গ. ডুমুর: ডুমুর গোত্রের কাকডুমুর রাতারগুলের মতো জলাবনেও জন্মায়, তাই একে জলাভূমির গাছের দলে রাখা যায়; গজারির মতো শুকনো ডাঙার গাছ নয়।
গজারি মানেই শাল, আর শাল মানেই শুকনো লাল মাটির বন।
হিজল-করচ পানিতে নাচে, গজারি শুকনো ডাঙায় বাঁচে।