বাংলাদেশের উপকূলীয় সমভূমিতে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী যে ধরণের বন্যা কবলিত হয় তার নাম-
সঠিক উত্তর
ঘজলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি উপকূলের মানুষ কোন ধরনের বন্যার শিকার হয় তা নিয়ে। উত্তর জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা।
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে বায়ুচাপ খুব কম থাকে আর প্রচণ্ড বাতাস সাগরের পানি উপকূলের দিকে ঠেলে দেয়। এতে সমুদ্রের পানি কয়েক মিটার ফুলে উঠে স্থলভাগে ঢুকে পড়ে; একেই জলোচ্ছ্বাস বলে। জোয়ারের সময় এলে উচ্চতা আরও বাড়ে। বঙ্গোপসাগরের অগভীর মহীসোপান আর ফানেলের মতো উপকূলের গড়নের জন্য বাংলাদেশে জলোচ্ছ্বাস খুব উঁচু হয়।
উনিশশো সত্তর ও উনিশশো একানব্বইয়ের ঘূর্ণিঝড়ে বেশিরভাগ মানুষ মারা গিয়েছিলেন এই জলোচ্ছ্বাসের পানিতেই। লবণাক্ত পানি ঢুকে ফসল ও মিঠা পানির উৎসও নষ্ট করে দেয়।
অন্য বন্যাগুলোর এলাকা আলাদা: আকস্মিক বন্যা উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি ঢলে হাওর অঞ্চলে, নদীজ বন্যা বড় নদীর অববাহিকায়, আর বৃষ্টিজনিত বন্যা টানা বৃষ্টিতে নিচু এলাকায় পানি জমে।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩| বন্যার ধরন | কোথায় বেশি |
|---|---|
| আকস্মিক বন্যা | সিলেট, সুনামগঞ্জের হাওর |
| নদীজ বন্যা | পদ্মা, যমুনা, মেঘনার অববাহিকা |
| বৃষ্টিজনিত বন্যা | নিচু সমতল এলাকা, শহর |
| জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা | উপকূলীয় সমভূমি |
- আকস্মিক বন্যা: উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি ঢল।
- নদীজ ও বৃষ্টিজনিত বন্যা: নদী অববাহিকা ও নিচু এলাকা।
- উপকূল: ঘূর্ণিঝড়ে সাগরের পানি ফুলে ঢোকে, জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা।
ক. নদীজ বন্যা: নদীজ বন্যা হয় বড় নদীর পানি উপচে পড়ে, মূলত নদী অববাহিকায়।
খ. আকস্মিক বন্যা: আকস্মিক বন্যা হয় পাহাড়ি ঢলে, বিশেষ করে উত্তর-পূর্বের হাওর অঞ্চলে।
গ. বৃষ্টিজনিত বন্যা: বৃষ্টিজনিত বন্যা টানা বৃষ্টিতে নিচু জমিতে পানি জমে; উপকূলের বিশেষ বন্যা নয়।
উপকূল মানেই জলোচ্ছ্বাস, হাওর মানেই আকস্মিক বন্যা।
সাগর ফুঁসে উঠলে উপকূল ডোবে।