“মাৎস্যন্যায়” বাংলার কোন সময়কাল নির্দেশ করে?
সঠিক উত্তর
গ৭ম-৮ম শতক
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে মাৎস্যন্যায় বাংলার কোন সময়কে বোঝায়। উত্তর সপ্তম থেকে অষ্টম শতক।
মাৎস্যন্যায় মানে মাছের নিয়ম: বড় মাছ যেমন ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে, তেমনি সবলরা দুর্বলদের ওপর অত্যাচার করে। কোনো কেন্দ্রীয় শাসক না থাকলে যে অরাজকতা চলে, তাকেই এ নামে ডাকা হয়।
সপ্তম শতকে গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় প্রায় একশো বছর এমন অরাজকতা চলে। অষ্টম শতকের মাঝামাঝি প্রধানরা মিলে গোপালকে রাজা নির্বাচন করলে পাল বংশের শুরু হয় এবং মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটে। ধর্মপালের খালিমপুর তাম্রশাসনে এই অরাজকতার উল্লেখ আছে।
ফাঁদ হলো ষষ্ঠ থেকে সপ্তম শতক। সপ্তম শতকের শুরুতে তো শশাঙ্কের শক্ত শাসন ছিল; অরাজকতা শুরু তাঁর মৃত্যুর পরে।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩- সপ্তম শতকের শুরুশশাঙ্কের শাসন
- সপ্তম থেকে অষ্টম শতকমাৎস্যন্যায়: অরাজকতা
- অষ্টম শতকের মাঝামাঝিগোপাল নির্বাচিত, পাল বংশ শুরু
- সপ্তম শতকের শুরুতে শশাঙ্কের শাসন।
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশো বছর অরাজকতা: মাৎস্যন্যায়।
- অষ্টম শতকের মাঝামাঝি গোপাল নির্বাচিত হয়ে পাল বংশ শুরু।
ক. ৫ম-৬ষ্ঠ শতক: পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতক গুপ্ত শাসন ও তার পরবর্তী পর্ব; শশাঙ্কও তখনো আসেননি।
খ. ৬ষ্ঠ-৭ম শতক: সপ্তম শতকের শুরুতে শশাঙ্কের শক্ত শাসন ছিল; অরাজকতা শুরু তাঁর মৃত্যুর পরে।
ঘ. ৮ম-৯ম শতক: অষ্টম শতকের মাঝামাঝি গোপালের হাতে পাল শাসন শুরু হয়ে যায়; নবম শতক পাল সাম্রাজ্যের উত্থানকাল।
শশাঙ্ক আর গোপালের মাঝখানের ফাঁকটাই মাৎস্যন্যায়।
শশাঙ্ক গেল, মাছের রাজত্ব এল; গোপাল এলেন, শৃঙ্খলা ফিরল।