সংবিধানের চেতনার বিপরীতে সামরিক শাসনকে বৈধতা দিতে কোন তফসিলের অপব্যবহার করা হয়?
সঠিক উত্তর
ক৪র্থ তফসিল
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে সামরিক শাসনকে বৈধতা দিতে সংবিধানের কোন তফসিল ব্যবহার করা হয়েছিল। উত্তর চতুর্থ তফসিল।
তফসিল হলো সংবিধানের শেষে জুড়ে দেওয়া তালিকা। চতুর্থ তফসিলের নাম ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি; এর উদ্দেশ্য ছিল নতুন সংবিধানে যাওয়ার সময়ের আইনি ধারাবাহিকতা রক্ষা।
উনিশশো ঊনআশি সালের পঞ্চম সংশোধনী এই তফসিলে নতুন অনুচ্ছেদ যোগ করে পঁচাত্তরের পনেরো আগস্ট থেকে ঊনআশি পর্যন্ত সামরিক শাসনামলের সব কাজকে বৈধতা দেয়। পরে সপ্তম সংশোধনীও একইভাবে এরশাদের সামরিক শাসনকে বৈধতা দেয়। ক্রান্তিকালীন বিধানের তফসিলকে এভাবে ব্যবহার করাকেই অপব্যবহার বলা হয়; দুই হাজার দশ সালে আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে।
পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তফসিল যোগ হয় দুই হাজার এগারো সালে। এগুলোতে আছে সাতই মার্চের ভাষণ, ছাব্বিশে মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, তাই এগুলো সামরিক শাসনের সঙ্গে সম্পর্কহীন।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩| তফসিল | বিষয় |
|---|---|
| প্রথম | অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন |
| তৃতীয় | শপথ ও ঘোষণা |
| চতুর্থ | ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধান, সামরিক শাসনের বৈধতা |
| পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম | সাতই মার্চের ভাষণ, স্বাধীনতার ঘোষণা, ঘোষণাপত্র |
- তফসিল মানে সংবিধানের শেষে যুক্ত তালিকা।
- চতুর্থ তফসিল ক্রান্তিকালীন বিধান; পঞ্চম সংশোধনী এখানেই সামরিক শাসনকে বৈধতা দেয়।
- পঞ্চম থেকে সপ্তম তফসিল দুই হাজার এগারোতে যুক্ত, স্বাধীনতার দলিল।
খ. ৫ম তফসিল: পঞ্চম তফসিল দুই হাজার এগারোতে যুক্ত, এতে আছে সাতই মার্চের ভাষণ; পঞ্চম সংশোধনীর সঙ্গে নাম মিলিয়ে বিভ্রান্তি।
গ. ৬ষ্ঠ তফসিল: ষষ্ঠ তফসিলে আছে ছাব্বিশে মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা; সামরিক শাসনের সঙ্গে সম্পর্ক নেই।
ঘ. ৭ম তফসিল: সপ্তম তফসিলে আছে একাত্তরের দশ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র; সামরিক শাসনের সঙ্গে সম্পর্ক নেই।
সামরিক শাসনের বৈধতা মানে পঞ্চম সংশোধনী আর চতুর্থ তফসিল; সংখ্যা দুটো গুলিয়ে ফেলবেন না।
পঞ্চম সংশোধনী লুকাল চতুর্থ তফসিলে।