কোনটি বিচার বিভাগের কাজ নয়?
সঠিক উত্তর
ঘসংবিধান প্রণয়ন
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটা রাষ্ট্রের তিন বিভাগের কাজের পার্থক্য পরীক্ষা করছে। আইনসভা আইন প্রণয়ন করে, নির্বাহী বিভাগ আইন বাস্তবায়ন করে, আর বিচার বিভাগ বিরোধ মীমাংসায় আইন ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ করে বিচার করে।
বিচার বিভাগের মূল কাজ কোনো মামলায় প্রাসঙ্গিক আইন কী বলে তা ব্যাখ্যা করা এবং সেই আইন ঘটনার উপর প্রয়োগ করে রায় দেওয়া। বাংলাদেশে সংবিধানের চূড়ান্ত ব্যাখ্যাকারী সুপ্রিম কোর্ট; কোনো আইন সংবিধানের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হলে আদালত তা বাতিল ঘোষণা করতে পারে।
সংবিধান প্রণয়ন বিচার বিভাগের কাজ নয়। বাংলাদেশের সংবিধান রচনা ও গ্রহণ করেছিল নির্বাচিত গণপরিষদ; এটি গৃহীত হয় ৪ নভেম্বর ১৯৭২ এবং কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২। পরে সংশোধনের ক্ষমতা পেয়েছে জাতীয় সংসদ।
ফাঁদ হলো আইনের প্রয়োগ বিকল্পটি। প্রশাসনিকভাবে আইন বাস্তবায়ন নির্বাহী বিভাগের কাজ ঠিকই, কিন্তু আদালতও মামলার ঘটনায় আইন প্রয়োগ করেই বিচার করে; তাই সবচেয়ে স্পষ্টভাবে বিচার বিভাগের বাইরের কাজ হলো সংবিধান প্রণয়ন।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩| কে | মূল কাজ |
|---|---|
| আইনসভা | আইন প্রণয়ন ও সংবিধান সংশোধন |
| নির্বাহী বিভাগ | আইন বাস্তবায়ন ও প্রশাসন |
| বিচার বিভাগ | আইন ও সংবিধানের ব্যাখ্যা, মামলায় আইন প্রয়োগ |
| গণপরিষদ | সংবিধান প্রণয়ন, ১৯৭২ |
- আইনসভা আইন বানায়, নির্বাহী বিভাগ তা বাস্তবায়ন করে।
- বিচার বিভাগ আইন ও সংবিধান ব্যাখ্যা করে এবং মামলায় আইন প্রয়োগ করে রায় দেয়।
- সংবিধান প্রণয়ন করেছিল গণপরিষদ, ১৯৭২ সালে: এটি বিচার বিভাগের কাজ নয়।
ক. আইনের প্রয়োগ: আদালত প্রতিটি মামলায় ঘটনার উপর আইন প্রয়োগ করেই রায় দেয়, তাই এটিও বিচারিক কাজের অংশ।
খ. আইনের ব্যাখ্যা: আইনের অর্থ নিয়ে বিরোধ হলে তার চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দেয় আদালত; এটি বিচার বিভাগের মূল কাজ।
গ. সংবিধানের ব্যাখ্যা: সংবিধানের চূড়ান্ত ব্যাখ্যাকারী সুপ্রিম কোর্ট, যা অসাংবিধানিক আইন বাতিলও করতে পারে।
প্রণয়ন শব্দ দেখলেই আইনসভা বা গণপরিষদ; ব্যাখ্যা শব্দ দেখলেই আদালত।
সংসদ লেখে, সরকার চালায়, আদালত ব্যাখ্যা করে।