ভূতাত্ত্বিক গঠন অনুযায়ী বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে সবচেয়ে পুরাতন শিলা গঠন পাওয়া যায়?
সঠিক উত্তর
খদিনাজপুর
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক গঠনের বয়স নিয়ে। সবচেয়ে পুরোনো শিলা গঠন পাওয়া যায় দিনাজপুর অঞ্চলে।
দিনাজপুরের মধ্যপাড়ায় ভূপৃষ্ঠের মাত্র একশো ত্রিশ মিটারের মতো নিচে প্রিক্যাম্ব্রিয়ান যুগের কঠিন ভিত্তিশিলা পাওয়া গেছে। প্রিক্যাম্ব্রিয়ান মানে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীন যুগ, যা চুয়ান্ন কোটি বছরেরও বেশি আগের। এখানে গ্রানাইট জাতীয় এই শিলা খনি থেকে তুলে নির্মাণকাজে ব্যবহার হয়।
দেশের বাকি অংশ অনেক নবীন। সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় টারশিয়ারি যুগের, মানে কয়েক কোটি বছর পুরোনো। বরেন্দ্র ও মধুপুরের উচ্চভূমি প্লাইস্টোসিন যুগের, আর বাকি প্লাবনভূমি একেবারে সাম্প্রতিক কালের পলিতে গড়া।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ পাহাড় দেখলে পুরোনো মনে হয়। কিন্তু উঁচু হওয়া আর পুরোনো হওয়া এক কথা নয়; বাংলাদেশের পাহাড়গুলো ভূতাত্ত্বিকভাবে নবীন ভঙ্গিল পাহাড়।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৪/৪| অঞ্চল | ভূতাত্ত্বিক যুগ |
|---|---|
| প্লাবনভূমি | সাম্প্রতিক কাল |
| বরেন্দ্র ও মধুপুর উচ্চভূমি | প্লাইস্টোসিন |
| সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় | টারশিয়ারি |
| দিনাজপুর, মধ্যপাড়া | প্রিক্যাম্ব্রিয়ান, সবচেয়ে প্রাচীন |
- বাংলাদেশের ভূভাগকে বয়স অনুযায়ী ভাগ করি।
- প্লাবনভূমি সাম্প্রতিক, বরেন্দ্র-মধুপুর প্লাইস্টোসিন যুগের।
- সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় টারশিয়ারি যুগের।
- দিনাজপুরের মধ্যপাড়ায় প্রিক্যাম্ব্রিয়ান ভিত্তিশিলা: সবচেয়ে প্রাচীন।
ক. সিলেট: সিলেটের পাহাড় টারশিয়ারি যুগের, তুলনামূলক নবীন।
গ. পার্বত্য চট্টগ্রাম: পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় উঁচু হলেও টারশিয়ারি যুগের নবীন ভঙ্গিল পাহাড়।
ঘ. মধ্যভাগের উচ্চভূমি: মধ্যভাগের মধুপুর উচ্চভূমি প্লাইস্টোসিন যুগের, প্রিক্যাম্ব্রিয়ানের তুলনায় খুবই নবীন।
প্রাচীনতম শিলা মানেই মধ্যপাড়ার কঠিন শিলা, দিনাজপুর।
দিনাজপুরের পাথর, পৃথিবীর শৈশবের সাক্ষী।