এল নিনো বাংলাদেশ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক আবহাওয়ায় কীভাবে প্রভাব ফেলে?
সঠিক উত্তর
খবর্ষার বৃষ্টিপাতের ধরনে অনিয়ম সৃষ্টি করে
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি এল নিনোর আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে। এল নিনো বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বর্ষার বৃষ্টিপাতের ধরনে অনিয়ম সৃষ্টি করে।
স্বাভাবিক সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব দিক, মানে দক্ষিণ আমেরিকার উপকূল, তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে, আর পশ্চিম দিক, মানে ইন্দোনেশিয়া-অস্ট্রেলিয়ার কাছে, গরম থাকে। ফলে বৃষ্টির মেঘ জমে এশিয়ার দিকে। এল নিনোর বছরে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর অস্বাভাবিক গরম হয়ে যায়, তাই বৃষ্টির কেন্দ্র পূর্ব দিকে সরে যায়।
এর ফলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়, বর্ষা দেরিতে আসে, বৃষ্টি কম বা অনিয়মিত হয়, খরা ও তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়ে। এল নিনো স্প্যানিশ শব্দ, অর্থ ছোট ছেলে বা শিশু যিশু, কারণ বড়দিনের সময় পেরুর উপকূলে এই উষ্ণতা দেখা যেত। এর বিপরীত অবস্থা লা নিনা।
ঘূর্ণিঝড় বৃদ্ধি বিকল্পটি বিভ্রান্ত করে, কারণ এল নিনো বিশ্বের আবহাওয়ায় অনেক বদল আনে। কিন্তু এই অঞ্চলে এর প্রধান ও সুপ্রতিষ্ঠিত প্রভাব বর্ষার বৃষ্টিতে অনিয়ম।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩- স্বাভাবিক সময়: পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর গরম, বৃষ্টির মেঘ এশিয়ার দিকে।
- এল নিনো: পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর অস্বাভাবিক গরম, বৃষ্টির কেন্দ্র পূর্বে সরে।
- ফল: এশিয়ায় মৌসুমি বায়ু দুর্বল, বর্ষার বৃষ্টি অনিয়মিত ও কম।
ক. শীতকালীন তাপমাত্রা বৃদ্ধি: শীতকালীন তাপমাত্রা বৃদ্ধি এল নিনোর প্রধান আঞ্চলিক প্রভাব হিসেবে চিহ্নিত নয়।
গ. গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা কমায়: এল নিনোর বছরে গ্রীষ্মে বরং তাপপ্রবাহ ও খরা বাড়ে, তাপমাত্রা কমে না।
ঘ. ঘূর্ণিঝড় বৃদ্ধি পায়: বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় বৃদ্ধিকে এল নিনোর সুপ্রতিষ্ঠিত প্রভাব ধরা হয় না; প্রধান প্রভাব বর্ষায়।
এল নিনো মানে এশিয়ায় কম বৃষ্টি ও খরা; লা নিনা মানে বেশি বৃষ্টি।
পূর্বে গরম সাগর, পশ্চিমে শুকনো মাঠ।