পৃথিবীর কক্ষপথের বিভিন্ন বিন্দু থেকে দেখলে কোন ঘটনার কারণে একটি নক্ষত্রের অবস্থানের আপাত পরিবর্তন ঘটে?
সঠিক উত্তর
ঘপ্যারালেক্স
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি জানতে চাইছে পৃথিবী কক্ষপথের ভিন্ন জায়গায় থাকলে কাছের নক্ষত্রের অবস্থান যে সামান্য সরে যেতে দেখা যায়, সেই ঘটনার নাম কী। উত্তর লম্বন বা প্যারালাক্স।
চোখের সামনে একটি আঙুল রেখে একবার বাম চোখ, একবার ডান চোখ বন্ধ করলে আঙুলটি পেছনের দেয়ালের সাপেক্ষে সরে যায়। এটাই লম্বন। একইভাবে জানুয়ারিতে আর জুলাইতে পৃথিবী সূর্যের দুই পাশে থাকে, তাই কাছের নক্ষত্রকে দূরের নক্ষত্রের পটভূমিতে সামান্য সরে যেতে দেখা যায়।
সরণের কোণ মেপে ত্রিকোণমিতি দিয়ে নক্ষত্রের দূরত্ব বের করা যায়; নক্ষত্র যত কাছে, সরণ তত বেশি। ১৮৩৮ সালে ফ্রিডরিখ বেসেল এ পদ্ধতিতে প্রথম কোনো নক্ষত্রের দূরত্ব মাপেন। দূরত্বের একক পারসেক এই লম্বন থেকেই এসেছে।
ফাঁদ হলো ডপলার প্রভাব ও লোহিত সরণ। এগুলো নক্ষত্রের আলোর রঙ বা কম্পাঙ্কের পরিবর্তন, অবস্থানের আপাত পরিবর্তন নয়।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৪/৪| ঘটনা | কী বদলায় |
|---|---|
| লম্বন (প্যারালাক্স) | দর্শকের অবস্থান বদলে বস্তুর আপাত অবস্থান |
| পৃথিবীর কক্ষপথ | ছয় মাসে দুই প্রান্ত |
| নাক্ষত্রিক লম্বন | কাছের নক্ষত্র সরে যায়, দূরত্ব মাপা যায় |
| ডপলার প্রভাব / লোহিত সরণ | আলোর কম্পাঙ্ক বা রঙ |
- এক চোখ বন্ধ করে আঙুল দেখলে পেছনের সাপেক্ষে সরে যায়: লম্বন।
- পৃথিবী ছয় মাসে সূর্যের অপর পাশে যায়।
- কাছের নক্ষত্র দূরের পটভূমিতে সরে যেতে দেখা যায়: নাক্ষত্রিক লম্বন।
- সরণ কোণ থেকে দূরত্ব মাপা যায়; বেসেল, ১৮৩৮।
ক. ডপলার ইফেক্ট: ডপলার প্রভাব হলো উৎস বা দর্শকের গতির কারণে কম্পাঙ্কের পরিবর্তন, অবস্থানের নয়।
খ. রেডশিফ্ট: লোহিত সরণ হলো দূরে সরে যাওয়া বস্তুর আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেড়ে যাওয়া।
গ. কসমিক: কসমিক কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার নাম নয়; এটি মহাজাগতিক বোঝাতে ব্যবহৃত বিশেষণ।
অবস্থানের আপাত পরিবর্তন মানে লম্বন; রঙের পরিবর্তন মানে ডপলার বা লোহিত সরণ।
চোখ বদলালে আঙুল নড়ে, পৃথিবী সরলে নক্ষত্র নড়ে।