'গ্রে-হাইড্রোজেন'-এর তুলনায় 'গ্রীন-হাইড্রোজেনের' সুবিধা হল -
সঠিক উত্তর
খএতে কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্য হয়
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি হাইড্রোজেনের রঙের নাম নিয়ে। হাইড্রোজেন গ্যাস নিজে বর্ণহীন; গ্রে, ব্লু, গ্রিন নামগুলো বোঝায় এটি কোন পদ্ধতিতে তৈরি হলো এবং তাতে কতটা কার্বন ডাই-অক্সাইড বের হলো।
গ্রে হাইড্রোজেন তৈরি হয় প্রাকৃতিক গ্যাস বা মিথেনকে উচ্চ তাপে বাষ্পের সঙ্গে বিক্রিয়া করিয়ে। এতে প্রতি কেজি হাইড্রোজেনের সঙ্গে প্রায় দশ থেকে তেরো কেজি কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে যায়।
গ্রিন হাইড্রোজেন তৈরি হয় সৌর বা বায়ুর মতো নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ দিয়ে পানির তড়িৎ বিশ্লেষণ করে। পানি ভেঙে শুধু হাইড্রোজেন আর অক্সিজেন হয়, তাই উৎপাদনে কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্য। এটাই তার আসল সুবিধা।
ফাঁদ হলো বাকি বিকল্পগুলো। গ্রিন হাইড্রোজেন এখনো গ্রে-র চেয়ে কয়েক গুণ দামি। আর দুটো একই হাইড্রোজেন অণু, তাই সংরক্ষণ, পরিবহন বা শক্তি ঘনত্বে কোনো পার্থক্য নেই; পার্থক্য শুধু তৈরির পথে।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৪/৪| বিষয় | গ্রে হাইড্রোজেন | গ্রিন হাইড্রোজেন |
|---|---|---|
| কাঁচামাল | প্রাকৃতিক গ্যাস বা মিথেন | পানি |
| শক্তির উৎস | জীবাশ্ম জ্বালানি | সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ |
| কার্বন নিঃসরণ | প্রতি কেজিতে প্রায় ১০ কেজি CO₂ | প্রায় শূন্য |
| উৎপাদন খরচ | কম | কয়েক গুণ বেশি |
| সংরক্ষণ ও শক্তি ঘনত্ব | একই অণু, একই | একই অণু, একই |
- হাইড্রোজেনের রং বোঝায় তৈরির পদ্ধতি, গ্যাসের রঙ নয়।
- গ্রে: প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে তৈরি, সঙ্গে প্রচুর কার্বন ডাই-অক্সাইড বের হয়।
- গ্রিন: নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে পানি ভেঙে তৈরি, কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্য।
- দাম গ্রে-র কম, কিন্তু তৈরি হওয়া গ্যাস দুটো হুবহু এক; সুবিধা শুধু পরিবেশে।
ক. এটি উৎপাদন করা সস্তা: উল্টো: গ্রিন হাইড্রোজেন এখনো গ্রে-র চেয়ে অনেক দামি, কারণ তড়িৎ বিশ্লেষণে প্রচুর বিদ্যুৎ লাগে।
গ. এটি সংরক্ষণ এবং পরিবহন করা সহজ: দুটোই একই হাইড্রোজেন অণু, তাই সংরক্ষণ ও পরিবহনের ঝামেলাও এক।
ঘ. প্রতি একক আয়তনে এর শক্তি ঘনত্ব বেশি: শক্তি ঘনত্ব অণুর ধর্ম; গ্রে আর গ্রিন হাইড্রোজেনে তা একই।
হাইড্রোজেনের যেকোনো রঙের প্রশ্নে উত্তর খুঁজুন তৈরির পথ আর কার্বন নিঃসরণে; গ্যাসের ধর্ম সবার এক।
সবুজ মানে পানি আর রোদ-বাতাসের বিদ্যুৎ, ধোঁয়া নেই; ধূসর মানে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে, সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড।