জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST) মূলতঃ তড়িৎ-চুম্বকীয় বর্ণালীর কোন্ অংশে মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে?
সঠিক উত্তর
কঅবলোহিত অঞ্চল
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ কোন আলোয় আকাশ দেখে, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর অবলোহিত বা ইনফ্রারেড অঞ্চল। এটি প্রায় শূন্য দশমিক ছয় থেকে সাড়ে আটাশ মাইক্রোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যে কাজ করে, মানে দৃশ্যমান আলোর কমলা-লাল প্রান্ত থেকে মধ্য-অবলোহিত পর্যন্ত।
কেন অবলোহিত? মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে, তাই বহু দূরের প্রথম দিকের ছায়াপথের আলো আসতে আসতে প্রসারিত হয়ে লম্বা তরঙ্গে সরে যায়; একে বলে লোহিত সরণ। তাছাড়া অবলোহিত আলো ধুলার মেঘ ভেদ করতে পারে, তাই নক্ষত্র জন্মের জায়গাও দেখা যায়।
অবলোহিত মানে তাপ, তাই টেলিস্কোপকে খুব ঠান্ডা রাখতে হয়। এজন্য এর বিশাল সানশিল্ড আছে এবং এটি পৃথিবী থেকে প্রায় পনেরো লাখ কিলোমিটার দূরে দ্বিতীয় লাগ্রাঞ্জ বিন্দুতে আছে।
ফাঁদ হলো দ্বিতীয় বিকল্প। জেমস ওয়েব নিকট-অবলোহিতে খুব শক্তিশালী ঠিকই, কিন্তু দৃশ্যমান আলোর কেবল লাল প্রান্তটুকু ছোঁয়, আর মধ্য-অবলোহিত পর্যন্ত যায়। দৃশ্যমান আর নিকট-অবলোহিত মিলিয়ে কাজ করে মূলত হাবল; জেমস ওয়েবের পুরো ক্ষেত্রটা এক কথায় অবলোহিত অঞ্চল।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৪/৪- তড়িৎ-চুম্বকীয় বর্ণালী সাজাই: লম্বা তরঙ্গ থেকে ছোট তরঙ্গ।
- এক্স-রে দেখে চন্দ্র, অতিবেগুনি ও দৃশ্যমান দেখে মূলত হাবল।
- দূরের ছায়াপথের আলো লোহিত সরণে অবলোহিতে সরে যায়।
- জেমস ওয়েব তাই অবলোহিত অঞ্চলের টেলিস্কোপ, প্রায় ০.৬ থেকে ২৮.৫ মাইক্রোমিটার।
খ. দৃশ্যমান এবং নিকট-অবলোহিত অঞ্চল: জেমস ওয়েব দৃশ্যমান আলোর কেবল লাল প্রান্ত ছোঁয় এবং মধ্য-অবলোহিত পর্যন্ত যায়; তাই এই বর্ণনা অসম্পূর্ণ, এটি মূলত হাবলের পরিসর।
গ. অতিবেগুনী এবং দৃশ্যমান অঞ্চল: অতিবেগুনি ও দৃশ্যমান আলো হাবল টেলিস্কোপের কাজ, জেমস ওয়েবের নয়।
ঘ. এক্স-রে এবং গামা-রে অঞ্চল: এক্স-রে ও গামা রশ্মি দেখে চন্দ্র বা ফার্মির মতো আলাদা টেলিস্কোপ।
জেমস ওয়েব মানে অবলোহিত, হাবল মানে দৃশ্যমান ও অতিবেগুনি, চন্দ্র মানে এক্স-রে।
ওয়েব দেখে তাপের চোখে: অবলোহিত।