ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের অন্যতম প্রভাব কি?
সঠিক উত্তর
ঘরপ্তানী বাড়ানো
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটা টাকার অবমূল্যায়নের প্রভাব জানতে চেয়েছে। অবমূল্যায়ন মানে এক ডলার কিনতে আগের চেয়ে বেশি টাকা লাগা। এর প্রধান প্রত্যাশিত প্রভাব রপ্তানি বাড়ানো।
উদাহরণ দিলে বোঝা সহজ। ধরুন একটি শার্ট বানাতে খরচ ১০০০ টাকা। এক ডলার ১০০ টাকা হলে বিদেশি ক্রেতার কাছে দাম ১০ ডলার; এক ডলার ১২৫ টাকা হলে দাম নেমে আসে ৮ ডলারে। সস্তা হওয়ায় বিদেশে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা বাড়ে।
উল্টো দিকে আমদানি ব্যয়বহুল হয়, ফলে আমদানি নিরুৎসাহিত হয় এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ে। তাই অবমূল্যায়ন রপ্তানির পক্ষে, আমদানির বিপক্ষে কাজ করে।
বিদেশে বিনিয়োগ বা খেলাপি ঋণের মতো বিকল্প অর্থনীতির শব্দ হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি করে, কিন্তু বিনিময় হারের সরাসরি প্রভাব পড়ে বাণিজ্যে।
- শার্টের উৎপাদন খরচ = ১০০০ টাকা
- ১ ডলার = ১০০ টাকা হলে দাম = ১০০০ ÷ ১০০ = ১০ ডলার
- ১ ডলার = ১২৫ টাকা হলে দাম = ১০০০ ÷ ১২৫ = ৮ ডলার
- বিদেশে দাম কমে, তাই রপ্তানি বাড়ে
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩- অবমূল্যায়ন মানে এক ডলারে বেশি টাকা লাগে।
- একই পণ্য বিদেশি ক্রেতার কাছে ডলারে সস্তা হয়।
- সস্তা হওয়ায় চাহিদা বাড়ে, অর্থাৎ রপ্তানি বাড়ে।
ক. বিদেশে বিনিয়োগে উৎসাহ প্রদান: অবমূল্যায়নে ডলার কিনতে বেশি টাকা লাগে, ফলে বিদেশে বিনিয়োগ আরও ব্যয়বহুল হয়; উৎসাহ নয়, নিরুৎসাহ তৈরি হয়।
খ. তারল্য সংকট কাটিয়ে উঠা: অবমূল্যায়ন তারল্য সংকটের সমাধান নয়; ডলার কিনতে বেশি টাকা লাগায় আমদানিকারকের টাকার চাহিদা বরং বাড়ে।
গ. খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনা: খেলাপি ঋণ কমে ঋণ আদায় ও ব্যাংক তদারকির মাধ্যমে; বিনিময় হারের পরিবর্তন এর সরাসরি সমাধান নয়।
টাকা দুর্বল মানে রপ্তানি সস্তা, আমদানি দামি।
টাকা নামলে রপ্তানি নাচে।