বাংলাদেশের উন্নয়ন ধারার সবচেয়ে বড় কাঠামোগত বৈপরীত্য কোনটি?
সঠিক উত্তর
খশক্তিশালী সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকের পাশাপাশি দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক শাসনব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটা বাংলাদেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য জানতে চেয়েছে। উত্তর হলো শক্তিশালী সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকের পাশাপাশি দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক শাসনব্যবস্থা।
দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল ছিল, দারিদ্র্য কমেছে, গড় আয়ু ও শিশুমৃত্যুর মতো সামাজিক সূচকে বড় উন্নতি হয়েছে। অথচ একই সময়ে দুর্নীতি, জবাবদিহির অভাব, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা আর প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা রয়ে গেছে।
সাধারণ ধারণা হলো ভালো প্রতিষ্ঠান ছাড়া টেকসই প্রবৃদ্ধি হয় না। বাংলাদেশে দুর্বল শাসনের মধ্যেও উচ্চ প্রবৃদ্ধি হওয়াকে অনেক অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশ প্যারাডক্স বলেন।
বাকি বিকল্পগুলোর একটি অংশ তথ্যের সঙ্গে মেলে না, অথবা সেগুলো দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত বৈপরীত্য নয়; তাই প্রতিটি বিকল্পের দুই অংশ আলাদা করে যাচাই করলেই চলে।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩| দিক | বাস্তবতা |
|---|---|
| জনসংখ্যা | এখনো বাড়ছে, স্থবির নয় |
| শ্রম অভিবাসন | বছরভেদে ওঠানামা, দীর্ঘমেয়াদে উঁচু |
| শিল্পায়ন | জিডিপিতে শিল্পের অংশ বেড়েছে |
| সামষ্টিক সূচক বনাম শাসন | সূচক শক্তিশালী, প্রতিষ্ঠান দুর্বল |
- বৈপরীত্য মানে দুটি বিষয় একসঙ্গে উল্টো দিকে চলা।
- জনসংখ্যা, অভিবাসন ও শিল্পায়নের বিকল্পগুলো তথ্য বা কাঠামোর দিক থেকে টেকে না।
- সূচকে অগ্রগতি অথচ প্রতিষ্ঠান দুর্বল: এটিই আসল বৈপরীত্য।
ক. জনসংখ্যা বৃদ্ধির স্থবিরতা সত্ত্বেও জিডিপির দ্রুত প্রবৃদ্ধি: বাংলাদেশের জনসংখ্যা এখনো বাড়ছে, যদিও বৃদ্ধির হার কমেছে; জনসংখ্যা বৃদ্ধি স্থবির হয়ে যায়নি।
গ. রেমিট্যান্স বৃদ্ধি কিন্তু শ্রম অভিবাসন হ্রাস: শ্রম অভিবাসন বছরভেদে ওঠানামা করে, কিন্তু প্রতিবছর লাখ লাখ কর্মী বিদেশে যান; এটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত বৈপরীত্য নয়।
ঘ. রপ্তানি বৃদ্ধি কিন্তু শিল্পায়ন কমে যাওয়া: রপ্তানি বাড়ার সঙ্গে জিডিপিতে শিল্প খাতের অংশও বেড়েছে; শিল্পায়ন কমে যায়নি।
বৈপরীত্যের প্রশ্নে আগে দেখুন কোন বিকল্পের দুই অংশই সত্য অথচ পরস্পরবিরোধী।
প্রবৃদ্ধি ছুটছে, প্রতিষ্ঠান হাঁটছে।