নিচের কোনটি বিষমীভবনের উদাহরণ?
সঠিক উত্তর
ঘলাল>নাল
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটা ধ্বনি পরিবর্তনের একটি নিয়ম নিয়ে: বিষমীভবন। একই শব্দে পাশাপাশি বা কাছাকাছি দুটি একই ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে উচ্চারণ সহজ করতে একটিকে বদলে অন্য ধ্বনি করা হয়। এটাই বিষমীভবন, মানে দুটি সম ধ্বনি বিষম হয়ে যায়।
লাল শব্দে দুটি ল আছে। প্রথম ল বদলে ন হয়ে গেল, শব্দটা হলো নাল। দুটি এক রকম ধ্বনি এখন আলাদা, তাই এটি বিষমীভবন। আরেকটি পরিচিত উদাহরণ শরীর থেকে শরীল, যেখানে দুটি র-এর একটি ল হয়েছে।
বিষমীভবন আসলে সমীভবনের উল্টো। সমীভবনে দুটি ভিন্ন ধ্বনি এক হয়ে যায়, যেমন জন্ম থেকে জম্ম; বিষমীভবনে দুটি এক ধ্বনি ভিন্ন হয়ে যায়।
বাকি অপশনগুলো অন্য নিয়মের। লাফ থেকে ফাল হলো ধ্বনি বিপর্যাস, কারণ ল আর ফ জায়গা বদল করেছে।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩| উদাহরণ | ধ্বনি পরিবর্তনের নিয়ম |
|---|---|
| লাল > নাল, শরীর > শরীল | বিষমীভবন (দুটি সম ধ্বনি বিষম) |
| লাফ > ফাল | ধ্বনি বিপর্যাস (জায়গা বদল) |
| প্রীতি > পিরীতি | স্বরভক্তি বা বিপ্রকর্ষ |
| দেশি > দিশি | স্বরসংগতি |
- বিষমীভবন মানে: দুটি একই ব্যঞ্জনের একটি বদলে যায়।
- লাল শব্দে দুটি ল; প্রথম ল হলো ন, তৈরি হলো নাল।
- বাকি তিনটি অপশন কোন নিয়মের, তা মিলিয়ে নিই।
ক. লাফ>ফাল: লাফ থেকে ফাল হলো ধ্বনি বিপর্যাস; ল আর ফ জায়গা বদল করেছে, কোনো ধ্বনি বদলে যায়নি।
খ. প্রীতি>পিরীতি: প্রীতি থেকে পিরীতি হলো স্বরভক্তি; যুক্তব্যঞ্জন প্র ভেঙে মাঝে স্বর ঢুকেছে।
গ. দেশি>দিশি: দেশি থেকে দিশি হলো স্বরসংগতি; শেষের ই-এর প্রভাবে আগের এ বদলে ই হয়েছে।
দুটি একই ব্যঞ্জন দেখলেই বিষমীভবন খুঁজুন: লাল > নাল, শরীর > শরীল।
সম থেকে বিষম: লাল হলো নাল।