ডাক ও খনার বচনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট ভূমিকা রেখেছেন-
সঠিক উত্তর
কঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
এই প্রশ্নের ছাপা বাক্যটি ভাঙা, তাই অর্থ পুরো পরিষ্কার নয়। প্রচলিত উত্তর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, যিনি বাংলা গদ্যকে সুশৃঙ্খল ও শিল্পসম্মত রূপ দেওয়ায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন।
বিদ্যাসাগরকে বলা হয় বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক শিল্পী। তিনি বাংলা গদ্যে যতিচিহ্নের সার্থক ব্যবহার শুরু করেন এবং বাক্যে ছন্দ ও ভারসাম্য আনেন। তাঁর বিখ্যাত রচনা বেতাল পঞ্চবিংশতি, শকুন্তলা ও সীতার বনবাস।
ডাক ও খনার বচন বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন লোকজ উপাদান। ডাকের বচনে আছে মানুষের আচরণ ও জীবনযাত্রার উপদেশ, আর খনার বচনে আছে কৃষি, আবহাওয়া ও জ্যোতিষবিষয়ক জ্ঞান। এগুলো মুখে মুখে প্রচলিত ছিল।
রবীন্দ্রনাথ, রামমোহন ও বঙ্কিমচন্দ্রও গদ্যে বড় অবদান রেখেছেন, তাই অপশনগুলো বিভ্রান্তিকর। রামমোহন ছিলেন বিতর্কমূলক গদ্যের পথিকৃৎ, বঙ্কিমচন্দ্র প্রথম সার্থক উপন্যাসিক, আর যতিচিহ্নসহ শিল্পিত গদ্যের কৃতিত্ব বিদ্যাসাগরের।
এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে প্রকাশিত গাইডগুলোতে দ্বিমত আছে; এখানে সবচেয়ে প্রচলিত উত্তরটি দেওয়া হলো।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩| ব্যক্তি | গদ্যে বিশেষ অবদান |
|---|---|
| রামমোহন রায় | বিতর্কমূলক গদ্য, গৌড়ীয় ব্যাকরণ |
| ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর | যতিচিহ্ন, প্রথম সার্থক শিল্পিত গদ্য |
| বঙ্কিমচন্দ্র | প্রথম সার্থক উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী |
| ডাক ও খনার বচন | প্রাচীন লোকজ উপদেশ ও কৃষিজ্ঞান |
- প্রশ্নটি ভাঙা, তবে মূল বিষয় বাংলা গদ্যে বিশেষ ভূমিকা।
- বিদ্যাসাগর গদ্যে যতিচিহ্ন ও ছন্দ এনে একে শিল্পরূপ দেন।
- ডাক ও খনার বচন প্রাচীন লোকজ উপদেশ ও কৃষিজ্ঞান, মুখে মুখে প্রচলিত।
খ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: রবীন্দ্রনাথ গদ্যে বড় লেখক, কিন্তু যতিচিহ্ন ও প্রথম শিল্পিত গদ্যের কৃতিত্ব তাঁর নয়।
গ. রামমোহন রায়: রামমোহন বিতর্কমূলক গদ্যের পথিকৃৎ, তবে তাঁর গদ্য ছিল আড়ষ্ট, যতিচিহ্নহীন।
ঘ. বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান উপন্যাসে; গদ্যের শৃঙ্খলা আগেই বিদ্যাসাগর দিয়েছিলেন।
বাংলা গদ্যের জনক বা যতিচিহ্ন দেখলেই বিদ্যাসাগর।
বিদ্যাসাগরের কলমে গদ্য পেল দাঁড়ি-কমার ছন্দ।