চর্যাপদের অধ্যাত্মভাবনা ও সাহিত্যিক উৎকর্ষের সর্বোত্তম সমন্বয় ঘটেছে যার মাধ্যমে-
সঠিক উত্তর
কসমাজচিত্র
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন, বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের সাধনসংগীত। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
চর্যার মূল উদ্দেশ্য গূঢ় ধর্মতত্ত্ব বা অধ্যাত্মভাবনা প্রকাশ। কিন্তু কবিরা সেই তত্ত্ব বলেছেন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ছবি দিয়ে: নৌকা বাওয়া, হরিণ শিকার, তাঁত বোনা, ডোমনির জীবন, ভাতের অভাব।
এই সমাজচিত্রের মাধ্যমেই তত্ত্ব আর সাহিত্যগুণ একসঙ্গে মিলেছে, তাই চর্যাপদকে সে যুগের সমাজের দলিলও বলা হয়। যেমন ভুসুকুপার পদে হরিণের মাংসই তার শত্রু, এই ছবির আড়ালে সাধনার কথা।
ভাষা অপশনটি টানে, কারণ চর্যার সন্ধ্যাভাষা বিখ্যাত; কিন্তু সন্ধ্যাভাষা তত্ত্ব গোপন রাখার উপায়, আর সাহিত্যিক উৎকর্ষ ফুটেছে জীবনের ছবিতে।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩- চর্যাপদের মূল বিষয় বৌদ্ধ সহজিয়া অধ্যাত্মতত্ত্ব।
- কবিরা সেই তত্ত্ব বলেছেন নৌকা, শিকার, তাঁতের মতো জীবনের ছবিতে।
- এই সমাজচিত্রেই তত্ত্ব ও সাহিত্যগুণ মিলেছে।
খ. জীবনভাবনা: জীবনভাবনা খুব সাধারণ কথা; চর্যার বিশেষত্ব সমাজের বাস্তব ছবি।
গ. ভাষা: সন্ধ্যাভাষা তত্ত্ব গোপন রাখার উপায়; অধ্যাত্ম ও সাহিত্যের মিলন ঘটেছে সমাজচিত্রে।
ঘ. কাব্যিকতা: কাব্যিকতা নিজেই সাহিত্যিক উৎকর্ষ; প্রশ্ন জানতে চেয়েছে কোন মাধ্যমে তা এসেছে।
চর্যাপদ: আবিষ্কার ১৯০৭, প্রকাশ ১৯১৬, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী; তত্ত্ব বলা হয়েছে সমাজের ছবিতে।
চর্যার তত্ত্ব লুকিয়ে আছে জেলে, শিকারি আর তাঁতির জীবনে।