‘খনার বচন' কোন যুগে সমৃদ্ধি লাভ করে?
সঠিক উত্তর
গপ্রাচীন যুগের শেষে
ব্যাখ্যা
খনার বচন কৃষি, আবহাওয়া ও দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ছোট ছোট ছড়া, মুখে মুখে প্রচলিত। যেমন, যদি বর্ষে মাঘের শেষ, ধন্যি রাজার পুণ্য দেশ।
প্রচলিত গবেষণা মত অনুযায়ী খনার বচন রচিত হয়েছিল মোটামুটি নবম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে, অর্থাৎ চর্যাপদের সমকালে, প্রাচীন যুগের শেষ দিকে। প্রাচীন যুগ ধরা হয় মোটামুটি ৬৫০ বা ৯৫০ থেকে ১২০০ সাল পর্যন্ত।
লোকমুখে প্রচলিত বলে এর সঠিক সময় নির্ধারণ কঠিন। পরবর্তী শতাব্দীর পুঁথিতেও খনার অনেক বচন সংকলিত হয়েছে, তাই কোনো কোনো গাইড একে অন্ধকার যুগ বা মধ্যযুগের শুরুর সঙ্গে যুক্ত করে।
পরীক্ষায় তাই দুটো অপশন নিয়ে দ্বিধা হয়। রচনাকালের প্রচলিত মত ধরলে উত্তর প্রাচীন যুগের শেষে। পুরো প্রাচীন যুগ বা মধ্যযুগের শেষ, এই দুটো স্পষ্টভাবেই ভুল।
এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে প্রকাশিত গাইডগুলোতে দ্বিমত আছে; এখানে সবচেয়ে প্রচলিত উত্তরটি দেওয়া হলো।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩- ৬৫০ থেকে ১২০০প্রাচীন যুগ: চর্যাপদ
- প্রাচীন যুগের শেষখনার বচনের রচনাকাল
- ১২০১ থেকে ১৩৫০অন্ধকার যুগ, মধ্যযুগের শুরু
- ১৩৫০ থেকে ১৮০০মধ্যযুগ: মঙ্গলকাব্য
- খনার বচন কৃষিভিত্তিক লোকছড়া, মুখে মুখে প্রচলিত।
- প্রচলিত মতে এটি চর্যাপদের সমকালে, নবম থেকে দ্বাদশ শতকে রচিত।
- অর্থাৎ প্রাচীন যুগের শেষে; পরে অন্ধকার যুগ ও মধ্যযুগে পুঁথিতে সংকলিত হয়।
ক. প্রাচীন যুগ: পুরো প্রাচীন যুগ বললে চর্যাপদের প্রথম দিকও ধরা হয়; খনার বচন এসেছে সেই যুগের শেষ দিকে।
খ. মধ্য যুগের শেষে: মধ্যযুগের শেষে মঙ্গলকাব্য ও ভারতচন্দ্রের যুগ; খনার বচন অনেক আগের।
ঘ. মধ্যযুগের শুরুতে: কোনো কোনো গাইড এটি দেয়, কারণ খনার বচন অন্ধকার যুগ ও মধ্যযুগের পুঁথিতে সংকলিত হয়; তবে প্রচলিত মতে রচনাকাল প্রাচীন যুগের শেষ দিক।
খনার বচন চর্যার শেষ দিকের; মুখে মুখে চলে এসেছে মধ্যযুগ পেরিয়ে।
চর্যা শেষে খনার বচন, চাষির ঘরে বৃষ্টির গণন।