নীচের কোন সাহিত্যে প্রাচীন হিন্দু ও আগত মুসলিম সংস্কৃতির চমৎকার মিথস্ক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়?
সঠিক উত্তর
খশায়ের
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটা মধ্যযুগের এমন সাহিত্য খোঁজে, যেখানে প্রাচীন হিন্দু ঐতিহ্য আর বাইরে থেকে আসা মুসলিম সংস্কৃতি মিশে গেছে। পুঁথি সাহিত্যের কবিদের বলা হতো শায়ের, আরবি শব্দ, মানে কবি।
শায়েরদের রচনায় বাংলার সঙ্গে আরবি, ফারসি, হিন্দুস্তানি শব্দ মিশে দোভাষী ভাষা তৈরি হয়। কাহিনিতেও মিশ্রণ: সত্যপীরের পাঁচালির মতো রচনায় মুসলিম পীর-ফকিরের সঙ্গে হিন্দু দেবদেবীর বিরোধ আর পরে বন্ধুত্ব দেখা যায়।
নাথসাহিত্য শিব ও নাথযোগীদের ধর্মমত নিয়ে, মুসলিম আগমনের আগের ধারা। মর্সিয়া সাহিত্য কারবালার বিয়োগান্ত কাহিনি নিয়ে শোককাব্য, যা মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক।
মৈমনসিংহ গীতিকাও অসাম্প্রদায়িক লোকগাথা, তাই এটি জোরালো বিকল্প; তবে এর মূল বৈশিষ্ট্য গ্রামীণ প্রেম ও মানবিকতা, সংস্কৃতির মিশ্রণ নয়।
এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে প্রকাশিত গাইডগুলোতে দ্বিমত আছে; এখানে সবচেয়ে প্রচলিত উত্তরটি দেওয়া হলো।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৪/৪| সাহিত্যধারা | মূল বিষয় |
|---|---|
| শায়ের বা পুঁথি | হিন্দু-মুসলিম সংস্কৃতির মিশ্রণ, দোভাষী ভাষা |
| নাথসাহিত্য | শিব ও নাথযোগী ধর্মমত |
| মৈমনসিংহ গীতিকা | গ্রামীণ প্রেমের লোকগাথা |
| মর্সিয়া | কারবালার শোককাব্য |
- শায়ের মানে কবি, পুঁথি সাহিত্যের রচয়িতা।
- ভাষায় মিশ্রণ: বাংলার সঙ্গে আরবি-ফারসি।
- কাহিনিতে মিশ্রণ: পীর আর দেবদেবীর মিলন।
- অন্য ধারাগুলো একক ঐতিহ্যের।
ক. নাথসাহিত্য: নাথসাহিত্য শিব ও নাথযোগীদের ধর্মমতভিত্তিক, মুসলিম সংস্কৃতির মিশ্রণ এর বৈশিষ্ট্য নয়।
গ. মৈমনসিংহ গীতিকা: অসাম্প্রদায়িক লোকগাথা হলেও এর মূল বিষয় গ্রামীণ প্রেম ও মানবিকতা; জোরালো বিকল্প, তবে প্রচলিত উত্তর শায়ের।
ঘ. মার্সিয়া সাহিত্য: মর্সিয়া কারবালার শোককাব্য, মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক।
আরবি-ফারসি মেশানো বাংলা আর পীর-দেবতার মিলন মানেই শায়ের বা দোভাষী পুঁথি।
শায়েরের কলমে পীর আর দেবতা এক আসরে।