বাংলা সাহিত্যে কথ্যরীতির প্রচলনে কোন পত্রিকার অবদান বেশি?
সঠিক উত্তর
খসবুজপত্র
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে, বাংলা সাহিত্যে চলিত বা কথ্য রীতি প্রতিষ্ঠায় কোন পত্রিকার ভূমিকা সবচেয়ে বড়। উত্তর সবুজপত্র, যা প্রমথ চৌধুরী ১৯১৪ সালে প্রকাশ করেন।
সবুজপত্রের ঘোষিত নীতি ছিল সাধু ভাষার বদলে মুখের ভাষার কাছাকাছি চলিত রীতিতে লেখা। প্রমথ চৌধুরী নিজে বীরবল ছদ্মনামে চলিত গদ্যে প্রবন্ধ লেখেন, আর রবীন্দ্রনাথও এই পত্রিকায় চলিত রীতিতে লেখা শুরু করেন; তাঁর ঘরে বাইরে উপন্যাস এখানেই ধারাবাহিক ছাপা হয়।
তুলনার জন্য মনে রাখুন: বঙ্গদর্শন ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্রের পত্রিকা, যার গদ্য ছিল সাধু রীতির। কল্লোল ১৯২৩ সালে আর কালিকলম ১৯২৬ সালে বের হয়; এরা রবীন্দ্র-পরবর্তী আধুনিকতার পত্রিকা, চলিত রীতি তখন আগেই প্রতিষ্ঠিত।
ফাঁদ হলো কল্লোল বিকল্পটি। কল্লোলের লেখকেরা চলিত ভাষায় লিখতেন বলে অনেকে এটিকেই প্রবর্তক ভাবেন, কিন্তু পথটা তৈরি করেছিল সবুজপত্র, প্রায় এক দশক আগে।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৪/৪- ১৮৭২বঙ্গদর্শন: বঙ্কিমচন্দ্র, সাধু রীতি
- ১৯১৪সবুজপত্র: প্রমথ চৌধুরী, চলিত রীতির প্রবর্তন
- ১৯২৩কল্লোল: আধুনিকতার পত্রিকা
- ১৯২৬কালিকলম: কল্লোলের সহযাত্রী
- ১৮৭২: বঙ্কিমচন্দ্রের বঙ্গদর্শন, গদ্য সাধু রীতির।
- ১৯১৪: প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্র, ঘোষণা দিয়ে চলিত রীতিতে লেখা শুরু।
- ১৯২৩: কল্লোল, আধুনিকতার পত্রিকা; চলিত রীতি তখন চালু হয়ে গেছে।
- ১৯২৬: কালিকলম, কল্লোলেরই সহযাত্রী। তাই প্রবর্তনের কৃতিত্ব সবুজপত্রের।
ক. কল্লোল: কল্লোল ১৯২৩ সালের আধুনিকতাবাদী পত্রিকা; চলিত রীতি তার আগেই সবুজপত্র প্রতিষ্ঠা করে।
গ. বঙ্গদর্শন: বঙ্গদর্শন বঙ্কিমচন্দ্রের পত্রিকা; এর গদ্য ছিল সাধু রীতির, চলিত নয়।
ঘ. কালিকলম: কালিকলম ১৯২৬ সালের কল্লোল-ঘরানার পত্রিকা; চলিত রীতির প্রবর্তনে এর ভূমিকা নেই।
চলিত রীতি মানেই প্রমথ চৌধুরী, বীরবল, সবুজপত্র। এই তিনটি একসঙ্গে মনে রাখুন।
সবুজপত্রে সবুজ সংকেত: সাধু থেকে চলিতে যাত্রা।