জ্যোৎস্নারাত কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
সঠিক উত্তর
কমধ্যপদলোপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি জ্যোৎস্নারাত শব্দের সমাস জানতে চেয়েছে। ব্যাসবাক্য হলো জ্যোৎস্না শোভিত রাত। মাঝের শোভিত পদটি লোপ পেয়ে হয়েছে জ্যোৎস্নারাত।
নিয়ম হলো, কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেলে তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় বলে। এখানে পরপদ রাত প্রধান, আর জ্যোৎস্না রাতটিকে বিশেষিত করছে।
একই ধরনের উদাহরণ: সিংহ চিহ্নিত আসন থেকে সিংহাসন, ঘি মাখা ভাত থেকে ঘিভাত, স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ থেকে স্মৃতিসৌধ। মাঝের ক্রিয়াবাচক শব্দটা চোখে না পড়লেও অর্থ বোঝাতে সেটা দরকার।
ফাঁদ হলো ষষ্ঠী তৎপুরুষ বিকল্পটি। অনেকে জ্যোৎস্নার রাত বলে ভাঙেন, কিন্তু রাতটা জ্যোৎস্নার মালিকানায় নয়; জ্যোৎস্না দিয়ে শোভিত। সম্বন্ধ নয়, বিশেষণের সম্পর্ক।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ → মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
- ব্যাসবাক্য লিখি: জ্যোৎস্না শোভিত রাত।
- মাঝের পদ শোভিত লোপ পায়।
- বাকি দুই পদ মিলে জ্যোৎস্নারাত: মধ্যপদলোপী কর্মধারয়।
খ. ষষ্ঠী তৎপুরুষ: ষষ্ঠী তৎপুরুষে এর বিভক্তির সম্পর্ক থাকে (রাজার পুত্র); রাত জ্যোৎস্নার অধিকারে নয়, জ্যোৎস্নায় শোভিত।
গ. পঞ্চমী তৎপুরুষ: পঞ্চমী তৎপুরুষে হতে বা থেকে অর্থ থাকে (বিলাতফেরত); এখানে তেমন কিছু নেই।
ঘ. উপমান কর্মধারয়: উপমান কর্মধারয়ে উপমান ও সাধারণ ধর্ম থাকে (তুষারশুভ্র); এখানে কোনো তুলনা নেই।
আরও উদাহরণ: সিংহাসন (সিংহ চিহ্নিত আসন), ঘিভাত (ঘি মাখা ভাত), স্মৃতিসৌধ (স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ)।
মাঝখানের শব্দ হারালে মধ্যপদলোপী।