বাগাড়ম্বর শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ ____।
সঠিক উত্তর
ঘবাক্ + আড়ম্বর
ব্যাখ্যা
বাগাড়ম্বর শব্দের অর্থ বেশি কথার আড়ম্বর বা জাঁকজমক; তাই এর দুই অংশ বাক্, মানে কথা, আর আড়ম্বর। অম্বর মানে আকাশ বা কাপড়, যার সাথে অর্থ মেলে না।
এটি ব্যঞ্জনসন্ধি। নিয়ম হলো: ক্, চ্, ট্, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্, জ্, ড্, দ্, ব্ হয়ে যায়। এখানে বাক্-এর ক্-এর পরে আ আছে, তাই ক্ হয়েছে গ্।
এরপর গ্ আর আ মিলে হয় গা, ফলে বাক্ যোগ আড়ম্বর থেকে হয় বাগাড়ম্বর। একই নিয়মে দিক্ যোগ অন্ত থেকে দিগন্ত।
দুটো ফাঁদ আছে। এক, সন্ধির পরের রূপ বাগ্ দেখে বিচ্ছেদেও বাগ লেখা; বিচ্ছেদে মূল শব্দ বাক্ লিখতে হয়। দুই, অম্বর লেখা; তাতে শব্দ হতো বাগম্বর, বাগাড়ম্বর নয়।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩ক্ চ্ ট্ ত্ প্ + স্বর → গ্ জ্ ড্ দ্ ব্ (দিক্ + অন্ত = দিগন্ত)
- অর্থ থেকে মূল দুই শব্দ: বাক্ (কথা) + আড়ম্বর।
- ক্-এর পরে স্বর আ, তাই ক্ বদলে গ্।
- গ্ + আ = গা, যুক্ত হয়ে বাগাড়ম্বর।
ক. বাগ + অম্বর: বাগ মূল শব্দ নয় এবং অম্বর অর্থে মেলে না; দুটো ভুলই একসাথে।
খ. বাগ + আড়ম্বর: আড়ম্বর ঠিক, কিন্তু বাগ সন্ধির পরের রূপ; বিচ্ছেদে মূল শব্দ বাক্ লিখতে হয়।
গ. বাক্ + অম্বর: বাক্ ঠিক, কিন্তু অম্বর হলে শব্দ হতো বাগম্বর; ‘ড়’ আসত না।
শব্দের শেষাংশ ‘ড়ম্বর’ থাকলে দ্বিতীয় পদ আড়ম্বর; আর গ দেখলে মূল ধ্বনি ক্ কি না ভাবুন।
কথার আড়ম্বর: বাক্ আর আড়ম্বর।