জারণ বিক্রিয়ায় ঘটে-
সঠিক উত্তর
কইলেক্ট্রন বর্জন
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটা জারণের আধুনিক সংজ্ঞা যাচাই করছে। ইলেকট্রনীয় তত্ত্ব অনুসারে যে বিক্রিয়ায় কোনো পরমাণু বা আয়ন ইলেকট্রন বর্জন করে, তাকে জারণ বলে; আর ইলেকট্রন গ্রহণ করলে বিজারণ।
পুরোনো সংজ্ঞাগুলো ছিল ভিন্ন ভিন্ন: অক্সিজেন যোগ বা হাইড্রোজেন অপসারণ, অথবা তড়িৎ ঋণাত্মক মৌল যোগ বা তড়িৎ ধনাত্মক মৌল ও মূলক অপসারণ। আধুনিক সংজ্ঞা এসব ক্ষেত্রকে এক কথায় ধরে: সবগুলোতেই আসলে ইলেকট্রন বর্জন ঘটে।
উদাহরণ: সোডিয়াম ও ক্লোরিন মিলে সোডিয়াম ক্লোরাইড তৈরির সময় সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন ছেড়ে দেয়, তাই সোডিয়াম জারিত হয়; ক্লোরিন সেই ইলেকট্রন নেয়, তাই ক্লোরিন বিজারিত হয়। জারণ ও বিজারণ সবসময় একসঙ্গে ঘটে, একে রেডক্স বিক্রিয়া বলে।
ফাঁদ দুটি। ইলেকট্রন আদান প্রদান পুরো রেডক্স বিক্রিয়ার বর্ণনা, শুধু জারণের নয়। আর তড়িৎ ধনাত্মক মৌল অপসারণ পুরোনো আংশিক সংজ্ঞা; সব ক্ষেত্র ধরে না বলে আধুনিক উত্তর ইলেকট্রন বর্জন।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৪/৪| ধারণা | জারণ | বিজারণ |
|---|---|---|
| অক্সিজেন | যোগ | অপসারণ |
| হাইড্রোজেন | অপসারণ | যোগ |
| তড়িৎ ধনাত্মক মৌল | অপসারণ | যোগ |
| ইলেকট্রন | বর্জন | গ্রহণ |
- প্রাচীন ধারণা: অক্সিজেন যোগ মানে জারণ।
- পরের ধারণা: হাইড্রোজেন অপসারণও জারণ।
- সম্প্রসারিত ধারণা: তড়িৎ ধনাত্মক মৌল বা মূলক অপসারণও জারণ।
- আধুনিক সংজ্ঞা সব ধরে: জারণ মানে ইলেকট্রন বর্জন।
খ. ইলেক্ট্রন গ্রহণ: বিকল্প ‘ইলেক্ট্রন গ্রহণ’ বিজারণের সংজ্ঞা, জারণের ঠিক উল্টো।
গ. ইলেক্ট্রন আদান-প্রদান: বিকল্প ‘ইলেক্ট্রন আদান-প্রদান’ জারণ ও বিজারণ মিলিয়ে পুরো রেডক্স বিক্রিয়ার বর্ণনা; শুধু জারণে ইলেকট্রন বর্জন হয়।
ঘ. তড়িৎ ধনাত্মক মৌলের বা মূলকের অপসারণ: বিকল্প ‘তড়িৎ ধনাত্মক মৌলের বা মূলকের অপসারণ’ জারণের পুরোনো আংশিক সংজ্ঞা; অক্সিজেন যোগের মতো ক্ষেত্র এতে ধরা পড়ে না, তাই আধুনিক উত্তর ইলেকট্রন বর্জন।
জারণে ইলেকট্রন যায়, বিজারণে ইলেকট্রন আসে; বাকি সব পুরোনো সংজ্ঞা এরই বিশেষ রূপ।
জারণে ছাড়ে, বিজারণে কাড়ে।