কবিওয়ালা ও শায়েরের উদ্ভব ঘটে কখন?
সঠিক উত্তর
কআঠারো শতকের শেষার্ধে ও উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কবিওয়ালা ও শায়েরদের উদ্ভব কখন। উত্তর আঠারো শতকের শেষার্ধ ও উনিশ শতকের প্রথমার্ধ, যে সময়কে বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিক্ষণ বলা হয়।
১৭৬০ সালে ভারতচন্দ্রের মৃত্যুতে মধ্যযুগের অবসান ধরা হয়, আর ১৮৬০ সালের দিকে মধুসূদনের হাতে আধুনিক কাব্যের সূচনা। মাঝের প্রায় একশো বছর বড় কোনো ধারা ছিল না; এই ফাঁকে কবিগান, টপ্পা, পাঁচালি আর শায়েরদের দোভাষী পুঁথি জনপ্রিয় হয়।
কবিওয়ালারা দুই দলে ভাগ হয়ে মুখে মুখে গানের লড়াই করতেন; শায়েরেরা আরবি-ফারসি মেশানো দোভাষী বাংলায় পুঁথি লিখতেন। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে এই যুগসন্ধির কবি বলা হয়।
তৃতীয় বিকল্প সপ্তদশ শতকের শেষার্ধ ও সপ্তদশ শতকের প্রথমার্ধ নিজেই অসংগত, কারণ একই শতকের শেষার্ধ প্রথমার্ধের আগে আসতে পারে না। ষোড়শ বা বিংশ শতকের বিকল্পগুলো যুগসন্ধির সময়সীমার বাইরে।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩- ১৭৬০ভারতচন্দ্রের মৃত্যু: মধ্যযুগের শেষ
- ১৭৬০–১৮৬০যুগসন্ধি: কবিওয়ালা, শায়ের, টপ্পা, পাঁচালি
- ১৮৬০মধুসূদন: আধুনিক যুগের সূচনা
- ১৭৬০: ভারতচন্দ্রের মৃত্যু, মধ্যযুগের সমাপ্তি।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০: যুগসন্ধি, কবিওয়ালা ও শায়েরদের যুগ।
- ১৮৬০: মধুসূদনের হাতে আধুনিক কাব্যের সূচনা।
খ. ষোড়শ শতকের শেষার্ধে ও সপ্তদশ শতকের প্রথমার্ধে: ষোড়শ-সপ্তদশ শতক মধ্যযুগের মাঝামাঝি, মঙ্গলকাব্য ও বৈষ্ণব পদের সময়; কবিগানের উদ্ভব পরে।
গ. সপ্তদশ শতকের শেষার্ধে ও সপ্তদশ শতকের প্রথমার্ধে: একই শতকের শেষার্ধ আর প্রথমার্ধ উল্টো ক্রমে লেখা, সময়সীমাটাই অসংগত।
ঘ. উনিশ শতকের শেষার্ধে ও বিংশ শতকের প্রথমার্ধে: উনিশ শতকের শেষার্ধ আধুনিক যুগ, রবীন্দ্রনাথের সময়; কবিওয়ালাদের যুগ তার আগে শেষ।
যুগসন্ধি = ভারতচন্দ্রের মৃত্যু থেকে মধুসূদন পর্যন্ত, ১৭৬০ থেকে ১৮৬০।
মধ্যযুগ আর আধুনিকের মাঝখানে কবিওয়ালার গানের লড়াই।