বাংলা সাহিত্যের জনক হিসেবে কার নাম চির স্মরণীয়?
সঠিক উত্তর
গঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটা বাংলা সাহিত্যের পথিকৃৎদের পরিচিত উপাধি নিয়ে। প্রশ্নে বাংলা সাহিত্যের জনক বলা হলেও প্রচলিত উপাধিটি হলো বাংলা গদ্যের জনক, আর তা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের।
বিদ্যাসাগরের আগেও বাংলা গদ্য ছিল, কিন্তু তা ছিল আড়ষ্ট। তিনি বাংলা গদ্যে যতিচিহ্নের সার্থক ব্যবহার করেন এবং বাক্যে ছন্দ ও সৌন্দর্য আনেন। এ কারণে রবীন্দ্রনাথ তাঁকে বাংলা ভাষার প্রথম যথার্থ শিল্পী বলেছেন।
অন্যদের পরিচয় আলাদা। মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ও সনেট আনেন। রাজা রামমোহন রায় ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাহিত্যসম্রাট নামে পরিচিত।
ফাঁদ হলো সাহিত্যের জনক কথাটিতে মধুসূদন বা বঙ্কিমকে বেছে নেওয়া। এ ধরনের প্রশ্নে বাক্যের ভাষা ঢিলেঢালা হলেও পরিচিত উপাধির সঙ্গে মিলিয়ে উত্তর দিতে হয়।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩| ব্যক্তি | পরিচিত পরিচয় |
|---|---|
| মাইকেল মধুসূদন দত্ত | অমিত্রাক্ষর ছন্দ ও বাংলা সনেটের প্রবর্তক |
| রাজা রামমোহন রায় | ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত |
| বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | সাহিত্যসম্রাট |
| ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর | বাংলা গদ্যের জনক |
- মধুসূদন অমিত্রাক্ষর ও সনেটের প্রবর্তক; রামমোহন নবজাগরণের অগ্রদূত।
- বঙ্কিমচন্দ্রের পরিচিত উপাধি সাহিত্যসম্রাট।
- বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: যতিচিহ্নের সার্থক প্রয়োগ।
ক. মাইকেল মধুসূদন দত্ত: মধুসূদন অমিত্রাক্ষর ছন্দ ও বাংলা সনেটের প্রবর্তক; তাঁর পরিচয় কাব্যে, গদ্যের জনক নন।
খ. রাজা রামমোহন রায়: রামমোহন রায় ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত; গদ্য লিখলেও জনক উপাধি বিদ্যাসাগরের।
ঘ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: বঙ্কিমচন্দ্রের উপাধি সাহিত্যসম্রাট; তিনি বাংলা উপন্যাসকে সার্থক রূপ দেন।
জনক উপাধি দেখলে মেলান: গদ্যের জনক বিদ্যাসাগর, সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিম, অমিত্রাক্ষরের প্রবর্তক মধুসূদন।
দাঁড়ি কমা বসালেন বিদ্যাসাগর, গদ্য পেল জনক।