বাংলাদেশে কালবৈশাখির ঝড় কখন হয়?
সঠিক উত্তর
ঘপ্রাক-মৌসুমী বায়ু ঋতুতে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে কালবৈশাখী ঝড় হয় প্রাক-মৌসুমি ঋতুতে, মানে মার্চ থেকে মে মাসে, বাংলা চৈত্র-বৈশাখে।
এই সময়ে দিনের প্রচণ্ড গরমে ভূমি দ্রুত উত্তপ্ত হয়, নিচের বাতাস গরম ও আর্দ্র হয়ে দ্রুত উপরে ওঠে। উপরে তখনো ঠান্ডা শুষ্ক বাতাস থাকে। এই অস্থিতিশীল অবস্থায় বিশাল বজ্রমেঘ তৈরি হয়, আর সাধারণত বিকেলে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে হঠাৎ প্রবল ঝড়, বজ্রপাত, শিলাবৃষ্টি নামে।
বৈশাখ মাসে এই ঝড় বেশি হয় বলে এর নামের সঙ্গে বৈশাখ জুড়ে আছে। এই ঝড় স্বল্পস্থায়ী হলেও ঘরবাড়ি, ফসল আর নৌযানের বড় ক্ষতি করে।
বাংলাদেশের জলবায়ুতে চারটি ঋতু ধরা হয়: শীতকাল, প্রাক-মৌসুমি, মৌসুমি বা বর্ষা, আর মৌসুমি-পরবর্তী। মৌসুমি-পরবর্তী সময়ে, মানে অক্টোবর-নভেম্বরে, বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় বেশি হয়; কালবৈশাখীর সঙ্গে একে গুলিয়ে ফেলা সাধারণ ভুল।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৪/৪| ঋতু | মাস | আবহাওয়া |
|---|---|---|
| শীতকাল | ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি | শুষ্ক, ঠান্ডা |
| প্রাক-মৌসুমি | মার্চ-মে | কালবৈশাখী, বজ্রঝড় |
| মৌসুমি | জুন-সেপ্টেম্বর | ভারী বৃষ্টি, বন্যা |
| মৌসুমি-পরবর্তী | অক্টোবর-নভেম্বর | ঘূর্ণিঝড় |
- বাংলাদেশের জলবায়ুর চার ঋতু: শীত, প্রাক-মৌসুমি, মৌসুমি, মৌসুমি-পরবর্তী।
- প্রাক-মৌসুমি (মার্চ-মে): প্রচণ্ড গরম, অস্থির বাতাস, বজ্রমেঘ।
- এই সময়েই বিকেলে উত্তর-পশ্চিম থেকে কালবৈশাখী।
- মৌসুমি-পরবর্তী সময়ে ঘূর্ণিঝড় বেশি, কালবৈশাখী নয়।
ক. মৌসুমী বায়ু ঋতুতে: মৌসুমি ঋতুতে টানা ভারী বৃষ্টি হয়, কালবৈশাখী নয়।
খ. শীতকালে: শীতকাল শুষ্ক ও স্থিতিশীল, ঝড়ের মৌসুম নয়।
গ. মৌসুমী বায়ু ঋতুর পরবর্তী সময়ে: মৌসুমি-পরবর্তী সময়ে ঘূর্ণিঝড় বেশি হয়; কালবৈশাখীর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলার ফাঁদ।
কালবৈশাখী = প্রাক-মৌসুমি = চৈত্র-বৈশাখ।
বর্ষা আসার আগে বৈশাখী ঝড় জাগে।