‘জুম’ চাষ পদ্ধতি বাংলাদেশের কোন জেলাসমূহে দেখা যায়?
সঠিক উত্তর
ঘচট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাসমূহ
ব্যাখ্যা
জুম চাষ দেখা যায় চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলোতে, অর্থাৎ রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের পাহাড়ি এলাকায়।
জুম হলো পাহাড়ের ঢালে স্থানান্তরিত চাষ। শুকনো মৌসুমে ঢালের জঙ্গল কেটে পুড়িয়ে ফেলা হয়, ছাই জমির সার হিসেবে কাজ করে। বর্ষার শুরুতে একই গর্তে ধান, ভুট্টা, তিল, মরিচসহ নানা ফসলের বীজ একসঙ্গে বোনা হয়।
কয়েক বছর চাষের পর মাটির উর্বরতা কমে গেলে চাষিরা অন্য ঢালে সরে যান, পুরোনো জমি আবার জঙ্গলে ভরে ওঠে। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর এটা প্রথাগত পদ্ধতি, তবে এতে বন উজাড় ও ভূমিক্ষয় হয়।
অন্য বিকল্পের জেলাগুলো সমতল বা নদী-অববাহিকার। সেখানে পাহাড়ের ঢাল নেই, তাই জুম চাষের প্রশ্নই আসে না।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩| অঞ্চল | ভূমিরূপ | জুম চাষ |
|---|---|---|
| সাতক্ষীরা, যশোর, কুষ্টিয়া | সমতল | নেই |
| নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ | সমতল, বিল | নেই |
| বগুড়া, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম | সমতল, চর | নেই |
| চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম | পাহাড়ের ঢাল | আছে |
- জুম মানে পাহাড়ের ঢালে স্থানান্তরিত চাষ।
- জঙ্গল কেটে-পুড়িয়ে একসঙ্গে নানা ফসল বোনা হয়।
- এর জন্য পাহাড় দরকার: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলো।
ক. সাতক্ষিরা, যশোহর, কুষ্টিয়া: সাতক্ষীরা, যশোর, কুষ্টিয়া সমতল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল; পাহাড় নেই।
খ. নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ: নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ সমতল ও বিলাঞ্চল।
গ. বগুড়া, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম: বগুড়া, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম উত্তরের সমতল ও চরাঞ্চল।
জুম = পাহাড়; পাহাড় = পার্বত্য চট্টগ্রাম।
পাহাড়ে আগুন, ঢালে বীজ: জুমের রীতি।