নৈরাজ্য যে তত্ত্বের মূল উপাদান সেটি হচ্ছে:
সঠিক উত্তর
গবাস্তববাদ
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের তত্ত্ব নিয়ে। এখানে নৈরাজ্য মানে বিশৃঙ্খলা নয়, বরং রাষ্ট্রগুলোর উপরে কোনো কেন্দ্রীয় সরকার বা কর্তৃপক্ষ না থাকা। এই ধারণাকে যে তত্ত্ব কেন্দ্রে রাখে, তা বাস্তববাদ।
বাস্তববাদের যুক্তি: উপরে কেউ নেই বলে প্রতিটি রাষ্ট্রকে নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই নিশ্চিত করতে হয়, তাই রাষ্ট্র ক্ষমতা ও জাতীয় স্বার্থকে সবার আগে রাখে। হ্যান্স মরগেনথাউ এবং নব্য বাস্তববাদী কেনেথ ওয়াল্টজ এই ধারার প্রধান তাত্ত্বিক।
অন্য তত্ত্বগুলো নৈরাজ্যকে ভিন্নভাবে দেখে। নয়া উদারতাবাদ নৈরাজ্য মেনে নিয়েও বলে, প্রতিষ্ঠান ও সহযোগিতা দিয়ে তা সামলানো যায়। গঠনবাদী আলেক্সান্ডার ওয়েন্ড্টের বিখ্যাত কথা, নৈরাজ্য হলো রাষ্ট্র যা বানায় তাই; অর্থাৎ এটি সামাজিকভাবে নির্মিত। নব্য মার্কসবাদ নৈরাজ্য নয়, শ্রেণি ও কেন্দ্র-প্রান্তের শোষণে জোর দেয়।
নয়া উদারতাবাদ বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ সেটিও নৈরাজ্যের অনুমান নিয়ে শুরু করে। কিন্তু তার মূল উপাদান সহযোগিতা ও প্রতিষ্ঠান, নৈরাজ্য নয়।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৪/৪| তত্ত্ব | মূল উপাদান |
|---|---|
| বাস্তববাদ | নৈরাজ্য, ক্ষমতা, জাতীয় স্বার্থ |
| নয়া উদারতাবাদ | প্রতিষ্ঠান ও সহযোগিতা |
| গঠনবাদ | ধারণা ও পরিচয়; নৈরাজ্য সামাজিক নির্মাণ |
| নব্য মার্কসবাদ | শ্রেণি ও কেন্দ্র-প্রান্তের শোষণ |
- বাস্তববাদ: নৈরাজ্য, ক্ষমতা ও জাতীয় স্বার্থ।
- নয়া উদারতাবাদ: নৈরাজ্য মানে, কিন্তু জোর প্রতিষ্ঠান ও সহযোগিতায়।
- গঠনবাদ: নৈরাজ্য সামাজিকভাবে নির্মিত, জোর ধারণা ও পরিচয়ে।
- নব্য মার্কসবাদ: জোর শ্রেণি ও কেন্দ্র-প্রান্তের শোষণে।
ক. নয়া উদারতাবাদ: বিকল্প ‘নয়া উদারতাবাদ’ নৈরাজ্য মেনে নিলেও এর মূল উপাদান আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও সহযোগিতা।
খ. গঠনবাদ: বিকল্প ‘গঠনবাদ’ বলে নৈরাজ্য রাষ্ট্রের ধারণা ও আচরণে তৈরি; এর মূল উপাদান ধারণা ও পরিচয়।
ঘ. নব্য মার্কসবাদ: বিকল্প ‘নব্য মার্কসবাদ’ রাষ্ট্রব্যবস্থার নৈরাজ্য নয়, অর্থনৈতিক শ্রেণি ও কেন্দ্র-প্রান্তের শোষণকে মূল ধরে।
‘নৈরাজ্য’, ‘ক্ষমতা’, ‘জাতীয় স্বার্থ’, ‘ক্ষমতার ভারসাম্য’: এই শব্দ দেখলে বাস্তববাদ।
মাথার উপর কেউ নেই, তাই ক্ষমতাই ভরসা: বাস্তববাদ।