“গিন্নি” কোন শ্রেণির শব্দ?
সঠিক উত্তর
ঘঅর্ধ-তৎসম
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি শব্দের উৎসভিত্তিক শ্রেণি জানতে চেয়েছে। যে সংস্কৃত শব্দ বাংলায় এসে কিছুটা বিকৃত হয়েছে, কিন্তু প্রাকৃতের ধাপ পেরোয়নি, তাকে অর্ধ-তৎসম বলে।
গিন্নি এসেছে সংস্কৃত গৃহিণী থেকে, সরাসরি মুখে মুখে বদলে। তাই প্রচলিত ব্যাকরণ বইয়ের অর্ধ-তৎসমের তালিকায় গিন্নি থাকে। একই দলে জ্যোছনা, যার মূল জ্যোৎস্না; ছেরাদ্দ, যার মূল শ্রাদ্ধ; বোষ্টম, যার মূল বৈষ্ণব।
তদ্ভব শব্দ কিন্তু প্রাকৃতের মধ্য দিয়ে এসে অনেক বদলে যায়, যেমন হস্ত থেকে হাত, চন্দ্র থেকে চাঁদ। সেখানে মূল শব্দ চেনা কঠিন হয়ে যায়।
ফাঁদ হলো তদ্ভব। বিকৃত হয়েছে দেখে অনেকে তদ্ভব ধরে নেন; পার্থক্য হলো অর্ধ-তৎসমে মূল সংস্কৃত শব্দটি এখনো সহজে চেনা যায়।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩অর্ধ-তৎসম: জ্যোৎস্না থেকে জ্যোছনা, শ্রাদ্ধ থেকে ছেরাদ্দ, বৈষ্ণব থেকে বোষ্টম
- মূল শব্দ খুঁজি: গিন্নি এসেছে গৃহিণী থেকে।
- প্রাকৃতের ধাপ ছাড়া সরাসরি বিকৃত হয়েছে।
- তাই অর্ধ-তৎসম, যেমন জ্যোছনা, ছেরাদ্দ।
ক. দেশি: দেশি শব্দ বাংলার আদিবাসীদের ভাষা থেকে আসা, যেমন কুলা, ঢেঁকি; গিন্নির মূল সংস্কৃত গৃহিণী।
খ. বিদেশী: বিদেশি শব্দ অন্য দেশের ভাষা থেকে আসে; গিন্নি সংস্কৃত মূলের শব্দ।
গ. তদ্ভব: তদ্ভব শব্দ প্রাকৃতের ধাপ পেরিয়ে আসে, যেমন হস্ত থেকে হাত; গিন্নি সরাসরি বিকৃত রূপ বলে অর্ধ-তৎসম।
বিকৃত শব্দে মূল সংস্কৃত শব্দটি সহজে চেনা গেলে অর্ধ-তৎসম, প্রাকৃতের ধাপে অনেক বদলালে তদ্ভব।
গৃহিণী ঘষে গিন্নি, অর্ধেক তৎসম।