‘জোছনা’ কোন শ্রেণীর শব্দ ?
সঠিক উত্তর
ঘঅর্ধ-তৎসম
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি জোছনা শব্দের উৎসগত শ্রেণি জানতে চেয়েছে। শব্দটি এসেছে সংস্কৃত জ্যোৎস্না থেকে, তবে উচ্চারণে কিছুটা বদলে। এমন সামান্য বদলে যাওয়া সংস্কৃত শব্দকে বলে অর্ধ-তৎসম।
অর্ধ-তৎসম আর তদ্ভবের তফাতটা মনে রাখুন। তদ্ভব শব্দ প্রাকৃতের ভেতর দিয়ে বহু বদলে আসে, যেমন হস্ত থেকে হাত; অর্ধ-তৎসম শব্দ সরাসরি সংস্কৃত থেকে নিয়ে মুখে মুখে একটু বদলে যায়, যেমন গৃহিণী থেকে গিন্নি, কৃষ্ণ থেকে কেষ্ট, বৈষ্ণব থেকে বোষ্টম।
তৎসম হতে হলে সংস্কৃত রূপ অবিকল থাকতে হয়, যেমন জ্যোৎস্না নিজে। দেশি শব্দ এসেছে এ দেশের আদি অধিবাসীদের ভাষা থেকে, যেমন কুলা, ঢেঁকি, ডাব।
যৌগিক বিকল্পটি আসলে অন্য ভাগের নাম। অর্থ অনুযায়ী শব্দের ভাগে যৌগিক, রূঢ়ি আর যোগরূঢ় আসে; উৎস অনুযায়ী ভাগের সঙ্গে এটি মেলে না।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩| শ্রেণি | উদাহরণ |
|---|---|
| যৌগিক (অর্থভিত্তিক) | গায়ক, কর্তব্য |
| তৎসম | জ্যোৎস্না, সূর্য, চন্দ্র |
| দেশি | কুলা, ঢেঁকি, ডাব |
| অর্ধ-তৎসম | জোছনা, গিন্নি, কেষ্ট, বোষ্টম |
- যৌগিক অর্থভিত্তিক ভাগ; উৎসের প্রশ্নে এটি অপ্রাসঙ্গিক।
- তৎসম হলে রূপ হতো জ্যোৎস্না; দেশি হলে মূল থাকত আদি অধিবাসীদের ভাষায়।
- জ্যোৎস্না মুখে মুখে একটু বদলে জোছনা: অর্ধ-তৎসম।
ক. যৌগিক: যৌগিক শব্দের অর্থভিত্তিক ভাগ, উৎসের ভাগ নয়; জোছনার উৎস সংস্কৃত।
খ. তৎসম: তৎসম হলে সংস্কৃত রূপ অবিকল থাকত, অর্থাৎ জ্যোৎস্না; জোছনা বদলে যাওয়া রূপ।
গ. দেশী: দেশি শব্দ আদি অধিবাসীদের ভাষা থেকে আসে; জোছনার মূল সংস্কৃত জ্যোৎস্না।
সংস্কৃত শব্দ মুখে মুখে একটু বদলালে অর্ধ-তৎসম: জোছনা, গিন্নি, কেষ্ট, বোষ্টম।
অর্ধেক চেনা সংস্কৃত: জ্যোৎস্না হলো জোছনা।