উল্লিখিত কোন রচনাটি পুঁথি সাহিত্যের অন্তর্গত নয় ?
সঠিক উত্তর
কময়মনসিংহ গীতিকা
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন রচনা পুথি সাহিত্যের অংশ নয়। প্রত্যাশিত উত্তর ময়মনসিংহ গীতিকা, কারণ এটি কোনো কবির লেখা কাব্যই নয়; গ্রামের গায়েনদের মুখে মুখে চলা লোকগীতিকা বা পালাগানের সংকলন।
এই পালাগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে, আর দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়। মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কাজলরেখা এর বিখ্যাত পালা।
পুথি সাহিত্য বলতে সাধারণত আঠারো ও উনিশ শতকে আরবি, ফারসি, উর্দু, হিন্দি শব্দ মেশানো দোভাষী বাংলায় লেখা কাহিনিকাব্য বোঝায়। এ ধারার প্রধান কবি ফকির গরীবুল্লাহ, যিনি ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি নিয়েও পুথি লেখেন; তাই ইউসুফ-জুলেখা আর লাইলী-মজনুর মতো প্রণয়কাহিনিকে গাইডগুলো পুথির ধারার সঙ্গে যুক্ত করে।
সতর্কতা: আলাওলের পদ্মাবতী আরাকান রাজসভার সাহিত্যিক বাংলায় লেখা কাব্য, দোভাষী পুথি নয়; তাই এই বিকল্প নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবু সবচেয়ে নিশ্চিত উত্তর ময়মনসিংহ গীতিকা, কারণ এটি লিখিত কাব্যই নয়, মৌখিক পালা।
এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে প্রকাশিত গাইডগুলোতে দ্বিমত আছে; এখানে সবচেয়ে প্রচলিত উত্তরটি দেওয়া হলো।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩| রচনা | কবি বা সংকলক | পরিচয় |
|---|---|---|
| ইউসুফ-জুলেখা | শাহ মুহম্মদ সগীর; পুথিতে গরীবুল্লাহ | প্রণয়কাহিনি, পুথির ধারায় |
| লাইলী-মজনু | দৌলত উজির বাহরাম খান | প্রণয়কাহিনি |
| পদ্মাবতী | আলাওল | আরাকানের কাব্য; বিতর্কিত |
| ময়মনসিংহ গীতিকা | চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন | মৌখিক পালাগান |
- পুথি সাহিত্য: দোভাষী বাংলায় লেখা কাহিনিকাব্য, প্রধান কবি ফকির গরীবুল্লাহ।
- ইউসুফ-জুলেখা, লাইলী-মজনু পুথির ধারার প্রণয়কাহিনি; আলাওলের পদ্মাবতী নিয়ে বিতর্ক আছে।
- ময়মনসিংহ গীতিকা: মুখে মুখে চলা পালাগান, লিখিত কাব্যই নয়।
খ. ইউসুফ জুলেখা: ইউসুফ-জুলেখা প্রণয়কাহিনি; শাহ মুহম্মদ সগীরের পর ফকির গরীবুল্লাহ এ কাহিনি নিয়ে দোভাষী পুথি লেখেন, তাই এটি পুথির ধারার সঙ্গে যুক্ত।
গ. পদ্মাবতী: পদ্মাবতী আলাওলের কাব্য; কঠোর অর্থে দোভাষী পুথি নয় বলে এ বিকল্প নিয়ে বিতর্ক আছে, তবে প্রত্যাশিত উত্তর ময়মনসিংহ গীতিকা।
ঘ. লাইলী মজনু: লাইলী-মজনু দৌলত উজির বাহরাম খানের প্রণয়কাব্য; গাইডগুলো একে পুথির ধারার সঙ্গেই ধরে।
ময়মনসিংহ গীতিকা: চন্দ্রকুমার দে সংগ্রহ, দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদনা, ১৯২৩।
পুথি বাঁচে কলমে, গীতিকা বাঁচে গলায়।