উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
সঠিক উত্তর
কশশব্যস্ত
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি উপমান কর্মধারয় সমাস চিনতে বলছে। উপমান মানে যার সঙ্গে তুলনা করা হয়। উপমান আর সাধারণ ধর্ম মিলে যে সমাস হয়, তা উপমান কর্মধারয়; এখানে যাকে তুলনা করা হচ্ছে, সেই উপমেয় বাক্যে থাকে না।
শশব্যস্ত শব্দের ব্যাসবাক্য শশকের ন্যায় ব্যস্ত। শশক মানে খরগোশ, এটিই উপমান; আর ব্যস্ত হলো সাধারণ ধর্ম, কারণ খরগোশ সবসময় চঞ্চল। কে ব্যস্ত, সেই উপমেয় নেই, তাই এটি উপমান কর্মধারয়।
একই ধাঁচের আরও উদাহরণ: তুষারের ন্যায় শুভ্র মিলে তুষারশুভ্র, কাজলের ন্যায় কালো মিলে কাজলকালো, বজ্রের ন্যায় কঠিন মিলে বজ্রকঠিন।
ফাঁদ হলো কালচক্র আর পরাণপাখি। এ দুটিতে উপমান আর উপমেয়কে এক করে দেখা হয়েছে: কাল রূপ চক্র, পরাণ রূপ পাখি। মাঝখানে রূপ বসলে সেটি রূপক কর্মধারয়, উপমান নয়।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৪/৪উপমান + সাধারণ ধর্ম = উপমান কর্মধারয়; উপমেয় রূপ উপমান = রূপক
- শশব্যস্ত ভাঙলে পাই শশ আর ব্যস্ত; শশ মানে শশক বা খরগোশ।
- ব্যাসবাক্য: শশকের ন্যায় ব্যস্ত।
- শশক উপমান, ব্যস্ত সাধারণ ধর্ম; তাই উপমান কর্মধারয়।
- তুলনা: কাল রূপ চক্র, মাঝে রূপ বসায় এটি রূপক কর্মধারয়।
খ. কালচক্র: কালচক্রের ব্যাসবাক্য কাল রূপ চক্র; উপমেয় আর উপমানকে এক করা হয়েছে বলে এটি রূপক কর্মধারয়।
গ. পরাণপাখি: পরাণপাখির ব্যাসবাক্য পরাণ রূপ পাখি; এখানেও রূপ বসেছে, তাই এটি রূপক কর্মধারয়।
ঘ. বহুব্রীহি: বহুব্রীহি শব্দটি নিজেই বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ: বহু ব্রীহি বা ধান আছে যার; এটি কর্মধারয় নয়।
ব্যাসবাক্যে ন্যায় আর সাধারণ ধর্ম থাকলে উপমান কর্মধারয়, মাঝখানে রূপ থাকলে রূপক। উদাহরণ: তুষারশুভ্র, কাজলকালো, বজ্রকঠিন।
ন্যায় দেখলে উপমান, রূপ দেখলে রূপক।