গ্রাফিন (graphene) কার বহুরূপী?
সঠিক উত্তর
ককার্বন
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি রূপভেদ বা বহুরূপতা নিয়ে। গ্রাফিন কার্বনের একটি রূপভেদ।
একই মৌলের পরমাণু ভিন্নভাবে সাজিয়ে ভিন্ন ধর্মের পদার্থ তৈরি হলে তাকে রূপভেদ বলে। কার্বনের পরিচিত রূপভেদ হলো হীরা, গ্রাফাইট, ফুলারিন ও গ্রাফিন। এদের সবকটিতে শুধু কার্বন পরমাণু আছে, পার্থক্য কেবল সাজানোর ধরনে।
গ্রাফিন হলো কার্বন পরমাণুর মাত্র এক পরমাণু পুরু একটি স্তর, যেখানে পরমাণুগুলো মৌচাকের মতো ষড়ভুজে সাজানো। গ্রাফাইট আসলে অসংখ্য গ্রাফিন স্তর একটার ওপর আরেকটা জমে তৈরি। দুই হাজার চার সালে আন্দ্রে গেইম ও কনস্তানতিন নভোসেলভ গ্রাফিন আলাদা করেন এবং দুই হাজার দশ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান।
রূপভেদ সবসময় একটি মাত্র মৌলের হয়। তাই কার্বনের সঙ্গে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন বা নাইট্রোজেন থাকা বিকল্পগুলো যৌগ বোঝায়, রূপভেদ নয়।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩| রূপভেদ | গঠন |
|---|---|
| হীরা | ত্রিমাত্রিক শক্ত জালক, সবচেয়ে কঠিন |
| গ্রাফাইট | অনেক স্তর জমে তৈরি, পেন্সিলের সিস |
| ফুলারিন | বলের মতো, যেমন ৬০টি কার্বনের খাঁচা |
| গ্রাফিন | এক পরমাণু পুরু ষড়ভুজাকার একক স্তর |
- রূপভেদ: একই মৌল, পরমাণুর ভিন্ন সাজ।
- কার্বনের রূপভেদ: হীরা, গ্রাফাইট, ফুলারিন।
- গ্রাফিন: এক পরমাণু পুরু ষড়ভুজাকার কার্বন স্তর, তাই কার্বনের রূপভেদ।
খ. কার্বন ও অক্সিজেন: কার্বন ও অক্সিজেন মিলে কার্বন মনোক্সাইড বা ডাই-অক্সাইডের মতো যৌগ হয়, রূপভেদ নয়।
গ. কার্বন ও হাইড্রোজেন: কার্বন ও হাইড্রোজেন মিলে হাইড্রোকার্বন যৌগ হয়, রূপভেদ নয়।
ঘ. কার্বন ও নাইট্রোজেন: কার্বন ও নাইট্রোজেন মিলে সায়ানাইডের মতো যৌগ হয়; রূপভেদ একক মৌলের।
রূপভেদের প্রশ্নে দুই মৌলের নাম থাকলে সেটা বাদ, কারণ রূপভেদ এক মৌলের।
গ্রাফাইটের এক পাতা খুলে নিলেই গ্রাফিন।