চর্যাপদের প্রাপ্তিস্থান কোথায়?
সঠিক উত্তর
খনেপাল
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি জানতে চায় চর্যাপদ কোথায় পাওয়া যায়। উত্তর নেপাল। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে তিনি এটি প্রকাশ করেন হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে। পরে ১৯২৬ সালে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখান চর্যার ভাষা বাংলারই আদি রূপ।
বাংলা ভাষার প্রাচীন নিদর্শন বাংলাদেশে পাওয়া যায়নি কেন, এই প্রশ্ন থেকেই ফাঁদ তৈরি হয়। তুর্কি আক্রমণের সময় বৌদ্ধ সাধকেরা পুথি নিয়ে নেপাল ও তিব্বতে চলে যান বলে ধারণা করা হয়, তাই পুথিটি মিলেছে নেপালে।
চর্যার তিব্বতি অনুবাদ খুঁজে পান প্রবোধচন্দ্র বাগচী, তাই তিব্বত নামটিও আসে; কিন্তু মূল পুথির প্রাপ্তিস্থান নেপাল।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৪/৪- ১৯০৭নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগারে চর্যাপদ আবিষ্কার
- ১৯১৬বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশ
- ১৯২৬সুনীতিকুমার: চর্যার ভাষা আদি বাংলা
- ১৯৩৮প্রবোধচন্দ্র বাগচী: তিব্বতি অনুবাদ
- ১৯০৭: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগারে চর্যাপদ পান।
- ১৯১৬: বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশ।
- ১৯২৬: সুনীতিকুমার প্রমাণ করেন চর্যার ভাষা আদি বাংলা।
- ১৯৩৮: প্রবোধচন্দ্র বাগচী তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
ক. বাংলাদেশ: চর্যার ভাষা আদি বাংলা হলেও এর পুথি বাংলাদেশে পাওয়া যায়নি; ভাষার উৎস আর পুথির প্রাপ্তিস্থান আলাদা কথা।
গ. উড়িষ্যা: উড়িষ্যার কোনো ভূমিকা চর্যাপদের প্রাপ্তিতে নেই; পুথি মিলেছে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগারে।
ঘ. ভুটান: ভুটান থেকে চর্যাপদ পাওয়া যায়নি; তিব্বতি অনুবাদের কথা মনে করে পাহাড়ি অন্য দেশ বেছে নেওয়া ভুল।
চর্যাপদের দুটি সাল জোড়ায় মনে রাখুন: আবিষ্কার ১৯০৭, প্রকাশ ১৯১৬; স্থান নেপাল।
বাংলার প্রথম গান লুকিয়ে ছিল নেপালের রাজ গ্রন্থাগারে।