ডাউকি ফল্ট বরাবর একটি প্রচণ্ড ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশের কোন নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করে?
সঠিক উত্তর
কব্রহ্মপুত্র নদী
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি নদীর গতিপথ পরিবর্তনের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে। ডাউকি ফল্ট মানে একটি ভূতাত্ত্বিক চ্যুতি। সঠিক উত্তর ব্রহ্মপুত্র নদ।
ডাউকি ফল্ট মেঘালয়ের শিলং মালভূমির দক্ষিণ প্রান্ত বরাবর, সিলেট-ময়মনসিংহ সীমান্তের ঠিক উত্তরে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত একটি বড় চ্যুতি। এই অঞ্চলে বড় ভূমিকম্প ভূমির উচ্চতা বদলে দিতে পারে, ফলে নদী নতুন ঢালের দিকে সরে যায়।
আগে ব্রহ্মপুত্রের মূল ধারা জামালপুর থেকে ময়মনসিংহ হয়ে পূর্ব দিকে বয়ে ভৈরবের কাছে মেঘনায় পড়ত। সতেরোশো বিরাশি থেকে সতেরোশো সাতাশি সালের মধ্যে ভূমিকম্প ও প্রলয়ঙ্করী বন্যার পর মূল প্রবাহ দক্ষিণে সরে নতুন খাতে বইতে শুরু করে। সেই নতুন খাতই যমুনা, আর ময়মনসিংহের পুরোনো ধারাকে এখন পুরাতন ব্রহ্মপুত্র বলে।
যমুনা নামটি বিকল্পে নেই, তাই অনেকে বিভ্রান্ত হন। মনে রাখুন, যমুনা আসলে ব্রহ্মপুত্রেরই নতুন পথ। পদ্মা, মেঘনা বা কর্ণফুলীর এমন বড় গতিপথ বদলের ঘটনা এই প্রশ্নের প্রসঙ্গে নেই।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৪/৪- ১৭৮২-র আগেমূল ধারা ময়মনসিংহ হয়ে মেঘনায়
- ১৭৮২–১৭৮৭ভূমিকম্প ও প্রলয়ঙ্করী বন্যা
- এরপরনতুন খাত: যমুনা
- আজপুরোনো ধারা: পুরাতন ব্রহ্মপুত্র
- আগে ব্রহ্মপুত্রের মূল ধারা ময়মনসিংহ হয়ে মেঘনায় যেত।
- ১৭৮২ থেকে ১৭৮৭ সালের মধ্যে ভূমিকম্প ও বড় বন্যা হয়।
- মূল প্রবাহ দক্ষিণে সরে নতুন খাত তৈরি করে: যমুনা।
- পুরোনো ধারা এখন পুরাতন ব্রহ্মপুত্র; গতিপথ বদলেছে ব্রহ্মপুত্রের।
খ. পদ্মা নদী: পদ্মার এমন ভূমিকম্পজনিত গতিপথ বদলের ঘটনা এই প্রশ্নের প্রসঙ্গ নয়; ডাউকি ফল্টের কাছের নদী ব্রহ্মপুত্র।
গ. কর্ণফুলি নদী: কর্ণফুলী চট্টগ্রামের নদী, ডাউকি ফল্ট থেকে অনেক দূরে।
ঘ. মেঘনা নদী: মেঘনা পুরোনো ব্রহ্মপুত্রের পানি পেত, কিন্তু গতিপথ বদলেছিল ব্রহ্মপুত্র নিজে।
যমুনার জন্ম মানেই ব্রহ্মপুত্রের পথ বদল, সতেরোশো আশির দশকে।
ব্রহ্মপুত্র পথ বদলায়, নতুন নাম পায় যমুনা।