‘মরণ রে তুঁহু মম শ্যাম সমান।’ – পংক্তিটির রচয়িতা-
সঠিক উত্তর
খরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
প্রশ্নের পঙ্ক্তিটি দেখতে মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদের মতো, কিন্তু এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা। কিশোর বয়সে তিনি ‘ভানুসিংহ’ ছদ্মনামে ব্রজবুলি ভাষায় কিছু পদ লেখেন, যা ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ নামে ১৮৮৪ সালে বই হয়ে বের হয়।
পদগুলো বিদ্যাপতির ঢঙে লেখা, তাই শুনতে প্রাচীন মনে হয়। ‘মরণ রে তুঁহু মম শ্যাম সমান’ এই সংকলনের বিখ্যাত পদ, যেখানে মৃত্যুকে প্রিয়তম শ্যামের মতো আপন বলা হয়েছে।
বিকল্পের অন্যরা প্রকৃত মধ্যযুগের কবি। বিদ্যাপতি মৈথিলি ভাষার কবি; তাঁর পদের অনুকরণেই বাংলায় ব্রজবুলিতে পদ লেখার ধারা গড়ে ওঠে। গোবিন্দদাস বিদ্যাপতির অনুসারী, তাঁকে দ্বিতীয় বিদ্যাপতি বলা হয়। কৃষ্ণদাস কবিরাজ ‘চৈতন্যচরিতামৃত’র লেখক।
ফাঁদ হলো বিদ্যাপতি, কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠিক তাঁর অনুকরণেই পদগুলো লিখেছিলেন।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩| কবি | পরিচিতি |
|---|---|
| রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী, ১৮৮৪ |
| বিদ্যাপতি | মৈথিল কবি, ব্রজবুলি ধারার আদর্শ |
| গোবিন্দদাস | দ্বিতীয় বিদ্যাপতি |
| কৃষ্ণদাস কবিরাজ | চৈতন্যচরিতামৃত |
- পঙ্ক্তিটি ব্রজবুলিতে লেখা বৈষ্ণব পদের ঢঙে।
- লেখক রবীন্দ্রনাথ, ছদ্মনাম ভানুসিংহ।
- বিদ্যাপতি অনুকরণের আদর্শ, পদের লেখক নন।
ক. বিদ্যাপতি: বিদ্যাপতির অনুকরণে লেখা বলে তাঁর মনে হয়, কিন্তু পদটি রবীন্দ্রনাথের।
গ. গোবিন্দদাস: গোবিন্দদাস বিদ্যাপতির অনুসারী মধ্যযুগের পদকর্তা; এই পদ তাঁর নয়।
ঘ. কৃষ্ণদাস কবিরাজ: কৃষ্ণদাস কবিরাজ চৈতন্যচরিতামৃতের লেখক, পদকর্তা হিসেবে এই পঙ্ক্তি তাঁর নয়।
ব্রজবুলির পদে ‘মরণ’, ‘ভানু’ বা আধুনিক অনুভব দেখলে রবীন্দ্রনাথের ভানুসিংহ পদাবলী ভাবুন।
রবি ছদ্মবেশে ভানু: মরণ রে তুঁহু মম শ্যাম সমান।