বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে উদ্ভিদের কোন খাদ্য উপাদান বৃদ্ধি পায়?
সঠিক উত্তর
কনাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি প্রাকৃতিক নাইট্রোজেন সংবন্ধন নিয়ে। বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে নাইট্রোজেন বাড়ে।
বাতাসের প্রায় আটাত্তর শতাংশ নাইট্রোজেন, কিন্তু উদ্ভিদ এই গ্যাস সরাসরি নিতে পারে না, কারণ নাইট্রোজেন অণুর দুই পরমাণুর বন্ধন খুব শক্ত। বজ্রপাতের প্রচণ্ড তাপ ও বিদ্যুৎ এই বন্ধন ভেঙে দেয়, ফলে নাইট্রোজেন বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে মিলে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি করে।
নাইট্রিক অক্সাইড আরও অক্সিজেন নিয়ে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড হয়, যা বৃষ্টির পানিতে দ্রবীভূত হয়ে লঘু নাইট্রিক এসিড হিসেবে মাটিতে পড়ে। মাটিতে তা নাইট্রেট লবণে পরিণত হয়, আর উদ্ভিদ মূল দিয়ে এই নাইট্রেট শোষণ করে প্রোটিন তৈরি করে।
অক্সিজেন বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ বিক্রিয়ায় অক্সিজেন লাগে; কিন্তু অক্সিজেন উদ্ভিদের মাটির খাদ্য উপাদান হিসেবে যোগ হয় না। পটাশিয়াম ও ফসফরাস আসে শিলা ও খনিজ থেকে, বাতাস থেকে নয়।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৪/৪- বজ্রপাতের তাপে N₂ ও O₂ মিলে NO তৈরি হয়।
- NO আরও অক্সিজেন নিয়ে NO₂ হয়।
- NO₂ বৃষ্টির পানিতে মিশে নাইট্রিক এসিড হয়ে মাটিতে পড়ে।
- মাটিতে নাইট্রেট তৈরি হয়: উদ্ভিদের নাইট্রোজেন বাড়ে।
খ. পটাশিয়াম: পটাশিয়াম আসে শিলা ও খনিজ থেকে; বজ্রপাতের সঙ্গে সম্পর্ক নেই।
গ. অক্সিজেন: অক্সিজেন বিক্রিয়ায় অংশ নেয়, কিন্তু মাটিতে খাদ্য উপাদান হিসেবে বাড়ে নাইট্রোজেন।
ঘ. ফসফরাস: ফসফরাস আসে ফসফেট শিলা থেকে; বাতাসে ফসফরাস গ্যাস নেই।
বজ্রপাত হলো আকাশের সার কারখানা: বাতাসের নাইট্রোজেনকে নাইট্রেট বানায়।
বাজ পড়লে মাটি পায় নাইট্রোজেন।