'তুমি মা কল্পতরু, আমরা সব পোষাগরু'- এই কবিতাংশটির রচয়িতা কে?
সঠিক উত্তর
ঘঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
প্রশ্নের পঙ্ক্তিটি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের লেখা। তিনি ব্যঙ্গ ও কৌতুকের কবিতার জন্য বিখ্যাত, আর মা কল্পতরু আর পোষা গরুর এই তুলনায় সেই চেনা ব্যঙ্গের সুরই শোনা যায়।
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকার সম্পাদক। তাঁকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়, কারণ তাঁর কবিতায় মধ্যযুগের রীতি আর আধুনিক যুগের বিষয় দুটোই আছে। তাঁর আরেকটি বিখ্যাত পঙ্ক্তি: কতরূপ স্নেহ করি, দেশের কুকুর ধরি, বিদেশের ঠাকুর ফেলিয়া।
বাকি কবিদের পরিচয় আলাদা। রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন ‘পদ্মিনী উপাখ্যান’, যার বিখ্যাত চরণ ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে’। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের মহাকাব্য ‘বৃত্রসংহার’। আর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর গদ্যকার হিসেবে বিখ্যাত, কবি হিসেবে নন।
ফাঁদ হলো দুই ঈশ্বরচন্দ্র। একই নামের কারণে বিদ্যাসাগর আর গুপ্ত গুলিয়ে যায়; কবিতা মানে গুপ্ত, গদ্য মানে বিদ্যাসাগর।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩| কবি | পরিচিতি |
|---|---|
| ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত | ব্যঙ্গকবিতা, সংবাদ প্রভাকর |
| ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর | গদ্যকার |
| রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় | পদ্মিনী উপাখ্যান |
| হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় | বৃত্রসংহার |
- পঙ্ক্তিটির সুর ব্যঙ্গাত্মক।
- রচয়িতা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, সংবাদ প্রভাকরের সম্পাদক।
- বিদ্যাসাগর গদ্যকার, রঙ্গলাল ও হেমচন্দ্রের রচনা আলাদা।
ক. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়: রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় ‘পদ্মিনী উপাখ্যান’-এর কবি, স্বাধীনতার আহ্বানের জন্য বিখ্যাত; এই ব্যঙ্গ তাঁর নয়।
খ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: বিদ্যাসাগর গদ্যকার; নামের মিলে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সঙ্গে গুলিয়ে যায়।
গ. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়: হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ‘বৃত্রসংহার’ মহাকাব্যের কবি; এই পঙ্ক্তি তাঁর নয়।
দুই ঈশ্বরচন্দ্র: কবিতায় গুপ্ত, গদ্যে বিদ্যাসাগর।
পোষা গরুর খোঁচা দিলেন গুপ্ত কবি।