আমাদের সম্পর্কে
প্রশ্নব্যাংক নতুন · ফ্রি৩,০২১টি আসল বিসিএস প্রশ্ন, ব্যাখ্যাসহসমাধান ও ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য৪৫তম বিসিএস (২০২৩)

মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবর্তিত 'অমিত্রাক্ষর ছন্দ' প্রকৃত পক্ষে বাংলা কোন ছন্দের নব-রূপায়ণ?

সঠিক উত্তর

খঅক্ষরবৃত্ত ছন্দ

ব্যাখ্যা

প্রশ্নটি মধুসূদনের অমিত্রাক্ষর ছন্দের ভিত্তি জানতে চেয়েছে। অমিত্রাক্ষর আসলে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের, বিশেষ করে চৌদ্দ মাত্রার পয়ারের, নতুন রূপ।

পয়ারে দুই চরণের শেষে মিল থাকে এবং চরণের শেষে ভাবও থামে। মধুসূদন মাত্রার কাঠামো একই রেখে অন্ত্যমিল তুলে দেন, আর ভাবকে এক চরণ থেকে পরের চরণে প্রবাহিত হতে দেন; একে বলে প্রবহমানতা।

পূর্ণাঙ্গ কাব্যে তিনি প্রথম এ ছন্দ ব্যবহার করেন তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যে, আর পূর্ণতা দেন মেঘনাদবধ কাব্যে। তাই অমিত্রাক্ষর মানে মিলহীন, প্রবহমান অক্ষরবৃত্ত।

গৈরিশ ছন্দ দেখে অনেকে বিভ্রান্ত হন। এটি গিরিশচন্দ্র ঘোষের নাটকের ভাঙা অমিত্রাক্ষর, যা নিজেই অমিত্রাক্ষর থেকে এসেছে; উৎস নয়, উত্তরসূরি।

স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন

৩/৩
ছন্দপরিচয়
স্বরবৃত্তছড়ার ছন্দ, দ্রুত লয়
মাত্রাবৃত্তমধ্যম লয়
অক্ষরবৃত্তপয়ার, ধীর লয়; অমিত্রাক্ষরের ভিত্তি
গৈরিশগিরিশচন্দ্রের ভাঙা অমিত্রাক্ষর
  1. পয়ার অক্ষরবৃত্তের চৌদ্দ মাত্রার ছন্দ, শেষে মিল থাকে।
  2. মধুসূদন মাত্রা ঠিক রেখে অন্ত্যমিল তুলে দেন।
  3. ভাব চরণ ছাপিয়ে প্রবাহিত হয়: এটাই অমিত্রাক্ষর, অক্ষরবৃত্তের নবরূপ।
অন্য অপশনগুলো কেন ভুল

ক. স্বরবৃত্ত ছন্দ: স্বরবৃত্ত ছড়া ও লোকছন্দের দ্রুত লয়ের ছন্দ; মহাকাব্যের গম্ভীর অমিত্রাক্ষর এর ভিত্তিতে নয়।

গ. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ: মাত্রাবৃত্তে যুক্তাক্ষরের হিসাব আলাদা ও লয় মধ্যম; অমিত্রাক্ষর পয়ারের কাঠামো থেকে এসেছে।

ঘ. গৈরিশ ছন্দ: গৈরিশ ছন্দ অমিত্রাক্ষরের পরের রূপ, গিরিশচন্দ্রের নাটকে; উৎস নয়, উত্তরসূরি।

শর্টকাট

অমিত্রাক্ষর = অক্ষরবৃত্ত পয়ার − অন্ত্যমিল + প্রবহমানতা।

মনে রাখুন

পয়ারের মিল খুলে দিলেন মধু, রইল অক্ষরবৃত্ত।