বাংলা শব্দ ভাণ্ডারে অনার্য জাতির ব্যবহৃত শব্দ –
সঠিক উত্তর
গদেশি
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি উৎস অনুযায়ী বাংলা শব্দের শ্রেণি নিয়ে। এ দেশের আদি অধিবাসী অনার্য জনগোষ্ঠী, যেমন কোল, মুন্ডা, সাঁওতাল, তাদের ভাষা থেকে যে শব্দ বাংলায় এসেছে, তাকে দেশি শব্দ বলে।
উদাহরণ: কুড়ি অর্থাৎ বিশ, কোল ভাষা থেকে; চুলা, মুন্ডারি থেকে; এ ছাড়া ঢেঁকি, কুলা, ডাব, ডিঙি। এগুলো সংস্কৃত থেকে আসেনি, এ মাটির নিজস্ব শব্দ।
বাকি শ্রেণিগুলোর মাপকাঠি আলাদা। তৎসম মানে সংস্কৃত থেকে অবিকৃত, যেমন চন্দ্র, সূর্য; তদ্ভব মানে সংস্কৃত থেকে প্রাকৃতের পথ ধরে বদলে আসা, যেমন হস্ত থেকে হাত; বিদেশি মানে আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি ভাষা থেকে আসা।
ফাঁদ বিদেশি বিকল্পটি, কারণ অনার্যরা আর্যদের চোখে বাইরের মানুষ মনে হতে পারে। কিন্তু তারাই এ দেশের আদি বাসিন্দা, তাই তাদের শব্দ দেশি।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩| শ্রেণি | উৎস | উদাহরণ |
|---|---|---|
| তৎসম | সংস্কৃত, অবিকৃত | চন্দ্র, সূর্য |
| তদ্ভব | সংস্কৃত থেকে বদলে | হাত, চাঁদ |
| বিদেশি | আরবি, ফারসি, ইংরেজি | কলম, চেয়ার |
| দেশি | অনার্য আদি অধিবাসীর ভাষা | কুড়ি, চুলা, ঢেঁকি |
- অনার্য মানে এ দেশের আদি অধিবাসী: কোল, মুন্ডা, সাঁওতাল।
- তাদের ভাষা থেকে আসা শব্দ: কুড়ি, চুলা, ঢেঁকি, ডাব।
- সংস্কৃত বা বিদেশি উৎস নয়, তাই এগুলো দেশি শব্দ।
ক. তৎসম: তৎসম শব্দ সংস্কৃত থেকে অবিকৃত আসে, অনার্য ভাষা থেকে নয়।
খ. তদ্ভব: তদ্ভব শব্দ সংস্কৃত থেকে প্রাকৃতের ভেতর দিয়ে বদলে আসে, অনার্য উৎসের নয়।
ঘ. বিদেশি: বিদেশি শব্দ আসে আরবি, ফারসি, ইংরেজির মতো বাইরের ভাষা থেকে; অনার্যরা এ দেশেরই আদি বাসিন্দা।
শব্দের উৎস আদিবাসী অনার্য ভাষা হলে দেশি; আরও উদাহরণ: খোকা, ঝিঙা, টোপর।
মাটির মানুষের শব্দ, তাই দেশি।