ইথার সম্বন্ধে কোনটি মিথ্যা?
সঠিক উত্তর
গএ মাধ্যম ছাড়া তাড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ সঞ্চালন সম্ভব নয়
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি পদার্থবিজ্ঞানের কল্পিত মাধ্যম ইথার সম্পর্কে মিথ্যা বিবৃতিটি খুঁজতে বলছে। মিথ্যা হলো: এ মাধ্যম ছাড়া তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ সঞ্চালন সম্ভব নয়।
উনিশ শতকে বিজ্ঞানীরা ভাবতেন শব্দের যেমন বাতাস লাগে, আলোরও তেমন একটি মাধ্যম লাগবে। তাই তাঁরা কল্পনা করেন মহাবিশ্বে সর্বত্র বিরাজমান, স্থিতিস্থাপক এক মাধ্যম, নাম ইথার।
১৮৮৭ সালে মাইকেলসন ও মর্লির পরীক্ষায় ইথারের কোনো প্রভাব পাওয়া যায়নি। পরে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব দেখায় যে আলো বা তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ শূন্য মাধ্যমেই চলতে পারে। তাই ইথার ছাড়া সঞ্চালন অসম্ভব, এই দাবিটি মিথ্যা। বিকল্পে ছাপা তাড়িৎ বানানটি ভুল; প্রমিত বানান তড়িৎ।
সাবধানতা: রসায়নে ইথার নামে সত্যিই একটি উদ্বায়ী তরল আছে, যা একসময় অজ্ঞান করার ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তাই প্রথম বিবৃতিটি রসায়নের অর্থে সত্য, আর বাকি দুটি কল্পিত ইথারের ঐতিহাসিক ধারণা হিসেবে সত্য।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩- ১৮০০-র দশকআলোর মাধ্যম হিসেবে ইথারের কল্পনা
- ১৮৮৭মাইকেলসন-মর্লি পরীক্ষা: ইথার নেই
- ১৯০৫আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা
- উনিশ শতক: আলোর জন্য কল্পিত সর্বব্যাপী, স্থিতিস্থাপক মাধ্যম ইথার।
- ১৮৮৭: মাইকেলসন-মর্লি পরীক্ষায় ইথারের প্রমাণ মেলেনি।
- ১৯০৫: আপেক্ষিকতা তত্ত্ব: আলো শূন্যেও চলে, ইথার লাগে না।
ক. এটি একটি রাসায়নিক তরল পদার্থ: রসায়নে ডাইইথাইল ইথার সত্যিই একটি উদ্বায়ী তরল, তাই বিবৃতিটি মিথ্যা নয়।
খ. এটি একটি কাল্পনিক মাধ্যম যা মহাবিশ্বে সর্বত্র বিরাজমান ছিল: উনিশ শতকের কল্পনায় ইথার সর্বব্যাপী মাধ্যম ছিল; ঐতিহাসিক বর্ণনা হিসেবে সত্য।
ঘ. এ কাল্পনিক মাধ্যমটির স্থিতিস্থাপক ধর্ম ছিলো: কল্পিত ইথারের স্থিতিস্থাপক ধর্ম ধরা হয়েছিল, যাতে এতে তরঙ্গ চলতে পারে; বর্ণনা হিসেবে সত্য।
তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গের মাধ্যম লাগে না; লাগে বললেই মিথ্যা।
আলো একা চলে, ইথার শুধু কল্পনায়।