'রক্তকরবী' নাটকের অন্তর্গত বিষয় কী?
সঠিক উত্তর
ঘপুঁজিবাদের নেতিবাচক প্রভাব দেখানো
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি রবীন্দ্রনাথের রক্তকরবী নাটকের মূল বিষয় জানতে চেয়েছে। নাটকটি প্রতীকী, আর এর কেন্দ্রে আছে যন্ত্রসভ্যতা ও সম্পদের লোভের বিরুদ্ধে প্রাণের প্রতিবাদ।
নাটকের যক্ষপুরীতে মাটির নিচ থেকে সোনা তোলা হয়। জালের আড়ালে থাকা রাজা আর তাঁর সর্দাররা খনির শ্রমিকদের মানুষ হিসেবে নয়, নম্বর দিয়ে চেনে। লাভের জন্য মানুষকে যন্ত্র বানানো, এটাই পুঁজিবাদের নেতিবাচক প্রভাব।
নন্দিনী এখানে প্রাণ, প্রেম ও মুক্তির প্রতীক, আর রঞ্জন তার প্রেমিক। নন্দিনীর ছোঁয়ায় শেষে রাজা নিজের গড়া ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়ান।
ফাঁদ হলো শ্রমিকদের অপ্রাপ্তি। শ্রমিকদের দুর্দশা নাটকে আছে, কিন্তু সেটা মূল কারণ নয়, ফল। মূল বিষয় সেই লোভী ব্যবস্থা, যা শ্রমিককে শোষণ করে।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩| প্রতীক | অর্থ |
|---|---|
| যক্ষপুরী ও সোনার খনি | সম্পদের লোভ |
| নম্বরে চেনা শ্রমিক | মানুষের যন্ত্রে পরিণত হওয়া |
| নন্দিনী | প্রাণ, প্রেম, মুক্তি |
| মূল বিষয় | পুঁজিবাদের নেতিবাচক প্রভাব |
- যক্ষপুরী: মাটির নিচ থেকে সোনা তোলার রাজ্য।
- শ্রমিকরা নাম হারিয়ে নম্বর; মানুষ এখানে লাভের যন্ত্র।
- নন্দিনী প্রাণের প্রতীক; নাটকের মূল বিষয় পুঁজিবাদী লোভের নেতিবাচক প্রভাব।
ক. নতুনের জয়গান গাওয়া: প্রাণ ও মুক্তির জয় নাটকে আছে, কিন্তু তা লোভী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ; শুধু নতুনের জয়গান মূল বিষয় নয়।
খ. সামন্তবাদের বিলুপ্তি দেখানো: যক্ষপুরীতে রাজা থাকলেও দ্বন্দ্বটা সামন্ত প্রথার পতন নিয়ে নয়, খনির সম্পদ আর মুনাফার লোভ নিয়ে।
গ. শ্রমিকদের অপ্রাপ্তি তুলে ধরা: শ্রমিকদের দুর্দশা নাটকে আছে, তবে সেটা পুঁজিবাদী শোষণের ফল; মূল বিষয় নয়, তাই এটি ফাঁদ।
রক্তকরবী মানেই যক্ষপুরী, সোনার খনি আর নন্দিনী; বিষয় লোভী যন্ত্রসভ্যতা।
যক্ষপুরীর সোনার নিচে চাপা পড়া প্রাণ, তাকে জাগায় নন্দিনী।