বিশ্বব্যাংকের মতে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি বাড়ার কারণ নয় কোনটি?
সঠিক উত্তর
কবৈদেশিক মুদ্রা বৃদ্ধি পাওয়া
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটা নেতিবাচক: বিশ্বব্যাংক যে কারণগুলো দেখিয়েছে তার বাইরের কারণটি খুঁজতে হবে। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ বিষয়ক প্রতিবেদনে উচ্চ মূল্যস্ফীতির পেছনে জ্বালানির উচ্চ দাম, টাকার অবমূল্যায়নের কারণে আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়া এবং মুদ্রানীতির দুর্বল কার্যকারিতার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিটির যুক্তি বোঝা দরকার। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়ে, তাই সব পণ্যের দাম বাড়ে। টাকার মান কমলে আমদানি পণ্য কিনতে বেশি টাকা লাগে। আর সুদের হারের ঊর্ধ্বসীমার মতো কারণে মুদ্রানীতি দুর্বল থাকলে বাজারে অর্থের জোগান কমানো যায় না।
অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা প্রবাহ বাড়লে টাকার ওপর চাপ কমে, টাকা স্থিতিশীল বা শক্তিশালী হয় এবং আমদানি সস্তা হয়। এটি মূল্যস্ফীতি কমানোর দিকে কাজ করে, বাড়ানোর দিকে নয়।
নেতিবাচক প্রশ্নে তাড়াহুড়ো করে প্রথম পরিচিত কারণটি বেছে নেওয়াই সাধারণ ভুল। তিনটি বিকল্প দাম বাড়ায়, একটি দাম কমায়; সেটিই উত্তর।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৪/৪| বিষয় | দামের ওপর প্রভাব |
|---|---|
| অভ্যন্তরীণ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি | পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়ে, দাম বাড়ে |
| টাকার অবমূল্যায়ন | আমদানি খরচ বাড়ে, দাম বাড়ে |
| দুর্বল মুদ্রানীতি | অর্থের জোগান নিয়ন্ত্রণে আসে না |
| বৈদেশিক মুদ্রা বৃদ্ধি | টাকা শক্ত হয়, দাম কমার চাপ |
- প্রশ্নে আছে কারণ নয় কোনটি, তাই ব্যতিক্রম খুঁজব।
- জ্বালানির দাম বাড়া ও টাকার অবমূল্যায়ন খরচ বাড়িয়ে দাম বাড়ায়।
- দুর্বল মুদ্রানীতি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।
- বৈদেশিক মুদ্রা বাড়লে টাকা শক্ত হয়, দাম কমার চাপ তৈরি হয়: এটিই ব্যতিক্রম।
খ. অভ্যন্তরীণ জ্বালানীর মূল্যবৃদ্ধি: বিশ্বব্যাংক জ্বালানির উচ্চ দামকে মূল্যস্ফীতির কারণ বলেছে; জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বেড়ে সব পণ্যের দাম বাড়ে।
গ. দুর্বল মুদ্রানীতি: সুদের হারের ঊর্ধ্বসীমার কারণে মুদ্রানীতি দুর্বলভাবে কাজ করেছে বলে বিশ্বব্যাংক উল্লেখ করেছে; তাই এটি কারণের তালিকায় আছে।
ঘ. টাকার অবমূল্যায়ন: টাকার মান কমলে আমদানি পণ্যের দাম বাড়ে; বিশ্বব্যাংক এটিকেই মূল্যস্ফীতির বড় কারণ বলেছে।
তিন বিকল্প যদি দাম বাড়ায় আর একটি কমায়, নেতিবাচক প্রশ্নে কমানোটিই উত্তর।
রিজার্ভ বাড়লে টাকা শক্ত হয়, দাম কমে।