বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের ফাঁদে (Middle-Income Trap) পড়ার ঝুঁকি মূলত কোন্ কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে যুক্ত?
সঠিক উত্তর
ঘপুঁজি বৃদ্ধি সত্ত্বেও মোট উৎপাদনশীলতার (Total Factor Productivity) বৃদ্ধি ধীর গতির হওয়া
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটা মধ্যম আয়ের ফাঁদের মূল কারণ জানতে চেয়েছে। মধ্যম আয়ের ফাঁদ মানে একটি দেশ সস্তা শ্রম ও পুঁজি বিনিয়োগ দিয়ে দ্রুত মধ্যম আয়ে পৌঁছায়, কিন্তু তারপর প্রবৃদ্ধি থমকে যায় এবং উচ্চ আয়ে উঠতে পারে না।
অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি আসে তিন উৎস থেকে: শ্রম, পুঁজি এবং মোট উৎপাদনশীলতা, যাকে ইংরেজিতে টোটাল ফ্যাক্টর প্রোডাক্টিভিটি বলে। শুধু শ্রম আর পুঁজি বাড়িয়ে একসময় আর লাভ বাড়ে না, কারণ প্রতিটি বাড়তি একক থেকে প্রাপ্তি কমতে থাকে। তখন প্রযুক্তি, দক্ষতা ও প্রতিষ্ঠানের উন্নতি দিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হয়।
বাংলাদেশে বিনিয়োগ বা পুঁজি বাড়লেও মোট উৎপাদনশীলতা ধীরে বাড়ছে, তাই এটিই ফাঁদে পড়ার মূল কাঠামোগত ঝুঁকি।
প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরতা বা নগরের ঘনত্বও সমস্যা, কিন্তু সেগুলো কাঠামোগত উৎপাদনশীলতার মূল প্রশ্ন নয়; এগুলো বেছে নেওয়াই সাধারণ ভুল।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৪/৪- প্রবৃদ্ধির উৎস তিনটি: শ্রম, পুঁজি ও উৎপাদনশীলতা।
- সস্তা শ্রম ও পুঁজি দিয়ে মধ্যম আয়ে পৌঁছানো যায়।
- শুধু শ্রম ও পুঁজি বাড়ালে একসময় বাড়তি প্রাপ্তি কমে যায়।
- উচ্চ আয়ে যেতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হয়; সেটি ধীর হলেই ফাঁদ।
ক. কৃষি রপ্তানি হ্রাস: কৃষি রপ্তানি বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ছোট অংশ; এর কমবেশি অর্থনীতির কাঠামোগত ফাঁদের মূল কারণ নয়।
খ. নগর জনসংখ্যার উচ্চ ঘনত্ব: নগরের উচ্চ ঘনত্ব অবকাঠামোর চাপ তৈরি করে, কিন্তু মধ্যম আয়ের ফাঁদের তত্ত্বে মূল বিষয় উৎপাদনশীলতা।
গ. প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি: প্রবাসী আয় ভোগ ও রিজার্ভে সহায়তা করে; এর ওপর নির্ভরতা ঝুঁকি হলেও উৎপাদনশীলতার ঘাটতির মতো মূল কাঠামোগত বাধা নয়।
মধ্যম আয়ের ফাঁদের প্রশ্নে উত্তর প্রায় সবসময় উৎপাদনশীলতা বা প্রযুক্তি।
শ্রমে ওঠা যায় মাঝ পর্যন্ত, চূড়ায় তোলে উৎপাদনশীলতা।