'বেতার, বিপত্নীক'-শব্দ দুটি কোন্ সমাসের উদাহরণ?
সঠিক উত্তর
কনঞ তৎপুরুষ, বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি দুটি সমস্তপদের সমাস একসঙ্গে জানতে চেয়েছে, আর পরীক্ষার উত্তর নঞ্ তৎপুরুষ ও বহুব্রীহি। দুটি শব্দ আলাদা করে দেখলে উত্তরে পৌঁছানো সহজ।
বিপত্নীক মানে বিগত পত্নী যার, অর্থাৎ যাঁর স্ত্রী মারা গেছেন। সমস্তপদটি পত্নী বা বিগত কাউকেই বোঝায় না, বোঝায় তৃতীয় একজন মানুষকে; তাই এটি বহুব্রীহি। এতে বিকল্প নেমে আসে দুটিতে, যেখানে দ্বিতীয় অংশ বহুব্রীহি।
বেতার শব্দের শুরুতে বে, যা না বোধক অর্থ দেয়, মানে তার নেই। না বোধক শব্দ দিয়ে গঠিত সমাস নঞ্ সমাস, তাই এখানে কর্মধারয় খাটে না। এ কারণে প্রশ্নকর্তা নঞ্ তৎপুরুষ ধরেছেন।
তবে সূক্ষ্ম বিচারে বেতারের ব্যাসবাক্য নেই তার যাতে, আর এটি বোঝায় একটি যন্ত্রকে; এমন হলে ব্যাকরণ বইয়ে একে নঞ্ বহুব্রীহি বলা হয়। তাই উত্তরটি পুরোপুরি নিখুঁত নয়, তবে বিকল্পগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে কাছের।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩সমস্তপদ তৃতীয় কাউকে বোঝালে বহুব্রীহি; না বোধক পূর্বপদ থাকলে নঞ্ সমাস
- বিপত্নীক: বিগত পত্নী যার, বহুব্রীহি।
- বেতার: বে মানে নেই, তার নেই; নঞ্ অর্থের সমাস।
- দুটো মিলিয়ে বিকল্প: নঞ্ তৎপুরুষ, বহুব্রীহি।
খ. কর্মধারয়, বহুব্রীহি: বিপত্নীক বহুব্রীহি ঠিক আছে, কিন্তু বেতার না বোধক বে দিয়ে গড়া, তাই কর্মধারয় নয়।
গ. অব্যয়ীভাব, তৎপুরুষ: বেতার অব্যয়ীভাব নয়, আর বিপত্নীক তৎপুরুষ নয়, কারণ শব্দটি তৃতীয় একজন মানুষকে বোঝায়।
ঘ. তৃতীয়া তৎপুরুষ, দ্বিগু সমাস: দুটির কোনোটিতেই তৃতীয়া বিভক্তির অর্থ বা সংখ্যাবাচক পূর্বপদ নেই, তাই তৃতীয়া তৎপুরুষ বা দ্বিগু খাটে না।
জোড়া সমাসের প্রশ্নে যে শব্দটি নিশ্চিত, সেটি দিয়ে আগে বিকল্প ছাঁটুন; বিপত্নীক বহুব্রীহি হওয়ায় দুটো বিকল্প এক ধাক্কায় বাদ।
বউ নেই যার বিপত্নীক, তার নেই যার বেতার।