'পরমেশ' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
সঠিক উত্তর
খপরম + ঈশ
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি পরমেশ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ চেয়েছে। এটি স্বরসন্ধি: পরম শব্দের শেষে অ, আর পরের শব্দ ঈশ শুরু হয়েছে ঈ দিয়ে।
নিয়ম হলো, অ বা আ এর পরে ই বা ঈ থাকলে দুটি মিলে এ হয়, আর তা আগের বর্ণে এ কার হিসেবে যুক্ত হয়। তাই পরম আর ঈশ মিলে হয় পরমেশ। ঈশ মানে প্রভু বা ঈশ্বর, আর পরমেশ মানে পরম প্রভু।
একই নিয়মে নর আর ঈশ মিলে নরেশ, গণ আর ঈশ মিলে গণেশ, মহা আর ঈশ মিলে মহেশ, আর দেব আর ইন্দ্র মিলে দেবেন্দ্র।
ফাঁদ হলো পরম আর ইশ। অ এর পরে হ্রস্ব ই এলেও যোগফল এ হয়, তাই ধ্বনির হিসেবে এটিও পরমেশ দেয়; কিন্তু বাংলায় ইশ বলে কোনো অর্থপূর্ণ শব্দ নেই। সন্ধি বিচ্ছেদে দুটি অংশকেই অর্থপূর্ণ শব্দ হতে হয়, আর এখানে সেই শব্দ ঈশ।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩অ বা আ + ই বা ঈ = এ: নরেশ, গণেশ, মহেশ, দেবেন্দ্র
- শব্দটি ভাঙি: পরম এবং ঈশ।
- অ আর ঈ মিলে হয় এ, যা ম এর সঙ্গে এ কার হয়ে বসে।
- পরম + ঈশ = পরমেশ, মানে পরম প্রভু।
ক. পরম + এশ: এশ বলে কোনো অর্থপূর্ণ শব্দ নেই; আর অ ও এ মিললে নিয়ম অনুযায়ী ঐ হতো, এ নয়।
গ. পরম + ইশ: অ ও ই মিলেও এ হয়, তাই ধ্বনিতে মেলে; কিন্তু ইশ অর্থহীন, প্রভু অর্থের শব্দটি ঈশ। এটাই সবচেয়ে বড় ফাঁদ।
ঘ. পরম + ইস: ইস শব্দটি অর্থহীন, আর এখানে শ নয় স দেওয়ায় পরমেশের বানানের সঙ্গেও মেলে না।
শেষে এ কার আর মাঝে ঈশ্বর অর্থ থাকলে ভাঙুন অ + ঈশ দিয়ে: নরেশ, গণেশ, পরমেশ, মহেশ।
পরম প্রভু মানে পরমেশ, তাই ঈশ দীর্ঘ ঈ দিয়ে।