বাংলা পুঁথি সাহিত্যের উদাহরণ কোনটি?
সঠিক উত্তর
খআমীর হামজা
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি পুঁথি সাহিত্যের উদাহরণ খুঁজতে বলেছে। পুঁথি সাহিত্য বলতে আঠারো ও উনিশ শতকে আরবি, ফারসি, হিন্দুস্তানি মেশানো মিশ্র ভাষায় লেখা কাব্যধারাকে বোঝায়, যাকে দোভাষী পুঁথিও বলে।
এ ধারার প্রথম সার্থক কবি ফকির গরীবুল্লাহ, আর তাঁর আমীর হামজা কাব্যের প্রথম অংশ পুঁথি সাহিত্যের পরিচিত নিদর্শন। পরে সৈয়দ হামজা কাব্যটি সম্পূর্ণ করেন। গরীবুল্লাহর অন্য রচনা জঙ্গনামা, ইউসুফ জোলেখা, সোনাভান।
নূরনামা আবদুল হাকিমের সুফিতত্ত্বমূলক কাব্য, মধ্যযুগের ধারা। গুপীচন্দ্রের সন্ন্যাস নাথ সাহিত্যের কাহিনি, শুকুর মাহমুদের রচনা। আর মহুয়া মৈমনসিংহ গীতিকার একটি পালা, অর্থাৎ লোকগীতিকা।
ফাঁদ হলো নূরনামা, কারণ এর নামেও আরবি ফারসি শব্দ আছে আর লেখকও মুসলমান কবি। কিন্তু আবদুল হাকিম মধ্যযুগের কবি, দোভাষী পুঁথির নন।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩| রচনা | লেখক বা উৎস | ধারা |
|---|---|---|
| আমীর হামজা | ফকির গরীবুল্লাহ, সৈয়দ হামজা | পুঁথি সাহিত্য |
| নূরনামা | আবদুল হাকিম | সুফিতত্ত্বমূলক কাব্য |
| গুপীচন্দ্রের সন্ন্যাস | শুকুর মাহমুদ | নাথ সাহিত্য |
| মহুয়া | মৈমনসিংহ গীতিকা | লোকগীতিকা |
| পুঁথির ভাষা | আরবি, ফারসি, হিন্দুস্তানি মিশ্রিত | দোভাষী |
- পুঁথি সাহিত্য: আরবি, ফারসি, হিন্দুস্তানি মেশানো মিশ্র ভাষার কাব্য।
- প্রথম সার্থক কবি ফকির গরীবুল্লাহ, রচনা আমীর হামজা।
- নূরনামা, গুপীচন্দ্রের সন্ন্যাস, মহুয়া অন্য তিন ধারার।
ক. নূরনামা: নূরনামা আবদুল হাকিমের সুফিতত্ত্বমূলক কাব্য, মধ্যযুগের রচনা; দোভাষী পুঁথির নিদর্শন নয়।
গ. গুপি চন্দ্রের সন্ন্যাস: গুপীচন্দ্রের সন্ন্যাস নাথ সাহিত্যের কাহিনি; পুঁথি সাহিত্যের ধারা আলাদা।
ঘ. মহুয়া: মহুয়া মৈমনসিংহ গীতিকার পালা, লোকগীতিকা; পুঁথি সাহিত্য নয়।
পুঁথি মানে গরীবুল্লাহ: আমীর হামজা, জঙ্গনামা, ইউসুফ জোলেখা, সোনাভান।
গরীবুল্লাহর পুঁথিতে আমীর হামজার লড়াই।